দঃসুরমার চাঁদনী ঘাট মাছ বাজার নয়,এ যেন শীলং তীর জুয়ার বাজার

সুরমা টাইমস ডেস্ক ::
সিলেট জেলায় ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে ভারতীয় শিলং তীর খেলা । এ তীর খেলা এখন শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত পেরিয়ে এ খেলা এখন সিলেট মহানগরীর অলিগলিতে ছিটিয়ে পড়েছে , এমনকি এ খেলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে।
এ ‘তীর খেলা’য় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছে। সিলেটের যেকোন এলাকায় বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা শিলং জুয়ায় বাজি ধরছে। এ খেলাটি সপ্তাহের ছয়দিনই বসছে। প্রতিদিন দুইবার এ খেলার ড্র অনুষ্টিত হয়ে থাকে।
সিলেটে তাদের এজেন্টের মাধ্যমে এদেশীয় এজেন্টরা ভারতের এজেন্টেদের সাথে জুয়ার আসরের সমন্বয় করে থাকে। আর ভারতীয় এ ভাগ্যের খেলায় স্কুল কলেজের ছাত্র, শিক্ষক,দিনমজুর, রিকশাচালক, যানবাহনের চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা অংশ নিচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেও দমন করা যাচ্ছে না এ জুয়া। গ্রেফতারের পর জামিনে বের হয়ে আবারও এ খেলায় জড়িয়ে পড়ছে জুয়াড়িরা। গত দু‘দিনে নগরী থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩১ জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ভারতীয় ধনকুবেররা এ রকম খেলাটি আবিস্কার করে। এর নাম রাখে মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় ‘তীর খেলা’। স্থানীয় ভাবে খেলাটিকে অনেকেই শিলং তীর, ডিজিটাল নাম্বার খেলা ইত্যাদি নামে অবহিত করে থাকেন।
খেলাটি ধরণ হচ্ছে এ রকম যে এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ১-৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় যে কোন মূল্যে। লটারিতে ০ থেকে ৯৯ পর্যন্তযে কোনো সংখ্যা কিনে নেওয়া যায়। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা যায়। যত মূল্যে সংখ্যাটি বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে। অথাৎ ১০ টাকায় ৭০০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাবেন।
প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় দুবার এ লটারির ড্র অনুষ্টিত হয়ে থাকে। খেলার ফলাফল দেওয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরটি পরিচালনা করা হয়। আর এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ফলাফল জানাও যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট শহরের কাজির বাজার , শেখঘাট, বেতের বাজার, শামিমাবাদ, কাজলশাহ্, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, কুমারগাঁও বাসষ্টেন্ড, তেমূখী, লামাকাজ টুকের বাজার, আখালিয়া, বালুচর , টিলাগড়, আম্বরখানা, মেন্দিবাগ, কদমতলীসহ শহরের কয়েকশত স্পটে ভারতীয় এ জুয়ার আসর বসে থাকে।
আর এসব জুয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রভাবশালী দলের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের একাধিক ব্যাক্তি। তাছাড়াও থানার অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে চলছে এ খেলা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান- নাম্বার বইয়ের মালিকরা হোটেলে বসে নিরাপদে খেলার নাম্বার টুকন বিক্রয় করছেন। তাদের লিডারদের কারনে কোন কিছু বলতে পারছেনা হোটেল মালিকরা। তাদের দাবী ভারতীয় “তীর খেলা” লটারির বিক্রেতাদের নিকট থেকে আইনপ্রয়োগকারী দলের সদস্যরা বইপ্রতি ৫শত হতে ৬শত টাকা হারে চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কিছুপ্রভাবশালী ব্যক্তিরা উৎকোচের বিনিময়ে এলাকায় প্রকাশ্যে তীর খেলার দোকান স্থাপন ও টোকেন বিক্রয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন।
অপরদিকে সিলেট নগরী থেকে তীর খেলা দমন করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ।গত
মঙ্গলবার নগরীর সুরমা মার্কেট ও লালাবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৫ জন জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দক্ষিন সুরমার লালাবাজার তীর শিলং ও জুয়ার আসর থেকে ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
এ অভিযানে এডিসি (দক্ষিন) মো. জেদান আল মুসার নেতৃত্বে দক্ষিন সুরমা থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই সময়ে অভিযান পরিচালনা করে সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেট হতে তীর (জুয়া) খেলার সরঞ্জামাদিসহ ১১জনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় আটাশ হাজার টাকা ও ১২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।এছাড়া বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে খোজ নিয়ে জানাযায়,নগরীর চাঁদনী ঘাট এলাকায় মাছ বাজারের ভিতরে এই তীর খেলার আসর বসে,এখানকার গডফাদারের নাম আলামিন (৩২) বর্তমান ঠিকানা তোওফিক হোটেল ও তার দুই সহযোগী হেলাল ও নজরুল। কয়েকদিন আগে আলামিন ২৯ দিনের সাজায় জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আসে। আসার পর সে থেমে থাকেনি,আবারো শুরু হয় তার এই জুয়ার ব্যবসা।

Sharing is caring!

Loading...
Open