আজমীরে বিয়ের শপথ, ফিরে এসে ‘ধর্ষণ’!

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় ‘ধর্ষণের শিকার’ টিভি উপস্থাপিকা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী তাঁর বন্ধু শরিফুল ইসলাম ওরফে নান্টুকে (৩২) আসামি করে মামলার করেছেন।

মামলার এজাহারে উপস্থাপিকা অভিযোগ করেন, শরিফুল আজমীর শরিফ গিয়ে তাঁর সঙ্গে ওয়াদাবদ্ধ হন যে, তিনি তাঁর সঙ্গে কোনোদিন প্রতারণা করবেন না এবং দেশে ফিরে তাঁকে বিয়ে করবেন। দেশে ফেরার ১১ দিনের মাথায় ‘ধর্ষণের শিকার’ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

২৩ বছর বয়সী ওই উপস্থাপিকা রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকার শনির আখড়ায় তাঁর বড় বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করেন। গত বুধবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলাটি করেন।

যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অভিনয়ের সূত্র ধরেই গত ২৭ মার্চ পূর্বাচল শুটিং স্পটে দেখা এবং পরিচয় হয়। নান্টুও একজন অভিনেতা। তাঁরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছেন। ফ্যাশন শো ও মিউজিকেও অংশ নিয়েছেন। পরে ধীরে ধীরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এমনকি ওই উপস্থাপিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও ছিল নান্টুর কাছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আছে, গত ১২ জুলাই একটি ফ্যাশন শো করার জন্য উপস্থাপিকা, শরিফুলসহ ২৮ জনের একটি দল ভারতে যায়। দিল্লিতে কাজ শেষ করে শরিফুল উপস্থাপিকাকে নিয়ে আজমীর শরিফে ঘুরতে যান।

সেখানে গিয়ে শরিফুল আজমীর শরিফ ছুয়ে তাঁর (উপস্থাপিকার) সঙ্গে ওয়াদাবদ্ধ হয় যে, তিনি একজন অবিবাহিত পুরুষ এবং জীবনে তাঁর সঙ্গে কোনোদিন অসত্য কথা বলবেন না ও প্রতারণা করবেন না। তিনি আরো বলেন যে, দেশে ফিরে গিয়ে উপস্থাপিকাকে বিয়ে করবেন।

এরপর গত ২১ জুলাই দেশে ফিরলেও বিয়ে নিয়ে শরিফুল টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থাপিকা। একপর্যায়ে শরিফুল বিয়ের কথা বলেন। তখন উপস্থাপিকা পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। কিন্তু তাতে রাজি না হয়ে শরিফুল একাকী বিয়ে করতে চান। অভিভাবককে জানাতে বললে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সেই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপস্থাপিকা এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২ আগস্ট দুপুরে শরিফুল বিয়ের বিষয়ে জরুরি কথা বলতে উপস্থাপিকার বাসায় আসেন। তখন বাসায় আর কেউ ছিল না। সেখানেই একপর্যায়ে ধর্ষণের শিকার হন উপস্থাপিকা। বাঁধা দিতে গেলে শরিফুল হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি তো তোমাকে বিয়েই করব।’ ঘটনাটি ভিডিও করা হয় এবং বাড়াবাড়ি করলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উপস্থাপিকা জানতে পারেন, শরিফুল বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর উপস্থাপিকা শরিফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন শরিফুল উপস্থাপিকার বিভিন্ন অশ্লীল ছবি বিভিন্নজনের কাছে পাঠাতে থাকেন। উপায়ন্তর না দেখে ঘটনার ১৪ দিন পর মামলা করেন উপস্থাপিকা।

এ ব্যাপারে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন,ওই উপস্থাপিকা নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

Open