গোয়াইনঘাটে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের হাহাকার

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের হাহাকার থামছে না। গত ৩ দিন পানি কমলেও মঙ্গলবার মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণ হওয়ায় ফের বাড়ছে নদনদীর পানি। বন্যায় আশ্রয় কেন্দ্রসহ হাওরাঞ্চলের মানুষের দূভোর্গ যন্ত্রনার যেন শেষ নেই।

গোয়াইনঘাটের বানবাসী মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১৮ মেট্রিক টন ত্রাণ শেষ হয়ে গেছে ৩ দিন আগেই। সরজমিন ঘুরে গোয়াইনঘাটের সর্বত্র বন্যাদূর্গত এলাকাগুলোতে দেখা যায় বানবাসী মানুষের বুক ফাটা আহাজারি আর্তনাদ। গবাদিপশু, হাঁস, মুরগি নিয়েও বিড়ম্ভনায় রয়েছেন বন্যার্তরা।

বন্যায় উপজেলার প্রায় ৫হাজার হেক্টর ধান সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারীতে পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আশা পলি মাটির কারনে পাথর কোয়ারীর বিভিন্ন এলাকা পাথর উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। একারণেই বেকার হয়ে পড়া কোয়ারী দুটির লক্ষাধিক শ্রমিক।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার এম. আনিছুজ্জামান জানিয়েছেন, বন্যায় গোয়াইনঘাটে রূপায়িত রূপা আমন, আউস সহ সবধরণের ফসল নিমজ্জিত হয়ে বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে।

গোয়াইনঘাটের লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের চিটিংবাড়ী, লেঙ্গুড়া হাওর, পশ্চিম জাফলংয়ের দ্বারিখেল, রুস্তমপুর ইউনিয়নের লামাবাজার প্রভৃতি এলাকায় বানবাসী মানুষের সাথে কথা বললে তারা তাদের দূর্ভোগ, দূর্দশা লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাটকে দূর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষনা করে ত্রাণতৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

ডৌবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহাল জানান, চাতল হাওর, কইয়া হাওর, সাতকুড়িকান্দি, কাঠাল কুড়ি কান্দি, হাড়িরকান্দি, লংপুর হাওর, হাটগ্রাম হাওর, কামাইদ হাওর সহ গোয়াইনঘাটে ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ডৌবাড়ী সহ ৪টি ইউনিয়নে শতভাগ বাড়ি ঘরের মানুষ জন পানিবন্দি রয়েছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, গোয়াইনঘাটে বানবাসী মানুষের জন্য সরকারের তরফে বরাদ্দকৃত ১৮ মেঃ টন চাল ইতোপূর্বে বণ্টন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ত্রাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদনও করা হয়েছে। আশা করা যায় রাতের ভিতরেই পরবর্তী বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open