সিলেটে মহিলা ছিনতাইকারী ও চোর সিন্ডিকেটের চোখ এখন শাহজালাল(র.) মাজারের ওরসের দিকে!

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের মহিলা ছিনতাইকারী ও চোর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাইফুল ও তার ভাই সোহেল এবং মন্নান ওরফে(ভাংগারী মন্নান)সে বর্তমানে পীরেরবাজার এলাকার বাসিন্দা। তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার দক্ষিণের কয়েকটি থানা। বিস্বস্ত সুত্রে জানাগেছে-প্রতিদিন সাইফুল তার সহযোগীদের নিয়ে বিকেলে দক্ষিণ সুরমার পুরাতন ডাকঘর সংলগ্ন জাহাজ বিল্ডিং এলাকায় অবস্থান করে থাকে,ছিনতাইকারী সাইফুল আগেও একাধিকবার ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে,অনেক বার জেল খেটেছে। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি থানায় বল্লি গ্রামে। পিতা মৃত বক্কু বেগ। ভাই সুহেলের মতো সাইফুলও ১০-১২ বছর আগে সিলেটে আসে। এরপর ধীরে-ধীরে অপরাধ জগৎ এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতো সে। বর্তমানে সে দক্ষিণ সুরমা শিববাড়ি এলাকার জৈনপুরে বসবাস করে। তার নিজের একাধিক স্ত্রী রয়েছে, ওদের নেতৃত্বে সিলেট নগরীতে মহিলা ছিনতাই সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। কখনো কখনো পুরুষদের সঙ্গে এক হয়ে ছিনতাই করে বেড়ায়। সম্প্রতি মহিলা সিন্ডিকেটের সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঢুকে চুরি করে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে এক মহিলা ছিনতাইকারীকে নগরীর আখালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মহিলা সিন্ডিকেট টি সিলেট নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার,এমনকি হযরত শাহজালাল (রহঃ)ও শাহপরান (রহঃ)মাজার জিয়ারত করতে আসা কেউ বাদ পড়ছেনা তাদের খপ্পর থেকে।গতকাল থেকে শুরু হয়েছে হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজারে পবিত্র উরস মোবারক,এবং এই সিন্ডিকেটের দৃষ্টি এখন ওরস মোবারকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের দিকে,ওদের খপ্পরে পড়ে কত মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যেতে পারে এখান থেকে। নিম্নে এই মহিলা চোর চক্রের কয়েকজন সদস্যের নাম দেওয়া হল, এরা হচ্ছে-পপি বেগম(ছন্দনাম সোমা)এর গডফাদার মন্নান ওরফে( ভাংগারী মন্নান),দক্ষিণ সুরমা জালালপুর কলার তল গ্রামে বসবাস করে সুমি বেগম,শীববাড়ি এলাকার লিপি বেগম, খোজারখলা এলাকার মমতা বেগম। এদিকে- সাইফুলের নিয়ন্ত্রণে থাকা নাজমা,কমলা,এই মহিলা চোর ও ছিনতাই চক্রের তত্ত্বাবধায়ন করে। ওরা বিভিন্ন সময় সাইফুলের স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়। সকাল হলেই তারা বেরিয়ে পড়ে নগরীতে, গোটা নগরজুড়ে থাকা ১২-১৫ জনের মহিলা সিন্ডিকেটকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সাইফুল ছিনতাই করে বেড়ালেও সে নিজেকে প্রায় সময় এসএমপির কয়েকটি থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতো। অপরাধ জগতে সে ‘ডিবি সাইফুল’ নামে পরিচিত।এমন কি অনুসন্ধানী সুত্রে জানা যায়,এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মোটা অংকের বখরা নিচ্ছেন এক প্রশাসনের সদস্য, জানা যায় (সি টি এস বি)’র কনষ্টেবল বাবলু নামে এক কর্মকর্তা। নগরীর বন্দরবাজার,ধোপাদিঘীর পাড়,ইত্যাদি এলাকাথেকে নিজেকে ডিবি পরিচয় দিয়ে,ভারতীয় তীর খেলার আসর থেকে নিয়মিত বখরা আদায় করে থাকে,তার কর্মকান্ডে কেউ বাঁধা প্রদান করলে সেই ব্যাক্তিকে বাবলু বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় প্রদর্শন করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (সি টি এস বি)’র একাধিক কর্মকর্তা তথ্যটি নিশ্চিত করেন,তিনি আরও জানান (সি টি এস বি)’র কনষ্টেবল বাবলু মহিলা চোর চক্রের সাথে জড়িত থাকায় প্রশাসনের গাফলতিতে,চলছে নারী চোর-ছিনতাই চক্রের রমরমা ছিনতাই বাণিজ্য।ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের নিয়ন্ত্রক সাইফুল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open