কি ছিলো রুবির অভিসন্ধি ?

সুুরমা টাইমস ডেস্ক : চারদিনের ব্যবধানে নিজেকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ উল্লেখ করে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসলেন সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রুবি সুলতানা। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে রুবির অভিসন্ধি নিয়েও।

বুধবার বিকেলে লন্ডন থেকে লাইভ অনুষ্ঠানে সালমান হত্যার বিচার চান এ নায়কের মা নীলা চৌধুরী। মূলত রুবির বক্তব্যকে ঘিরেই ছিল কথপোকথন। সেই লাইভে রুবিকেও কথা বলতে শোনা যায়। সেখানেও সামিরাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ দাবি করেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় রুবি বলেন, ‘সালমান শাহ খুন হতে পারে, আত্মহত্যাও করতে পারে। আমি এর কিছুই জানি না। কেউ আমাকে গালাগালি করলেও আমার কোনো অসুবিধা নেই। আমি যদি খুনি হই তাহলে আমাকে প্রমাণ করুক যে আমি খুনি। আমি আমেরিকান সিটিজেন। এখানে এসে আমাকে এত সহজে ধরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রমাণ দিতে পারব যে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি আমি সুস্থ নই। আমার বড় ছেলে আমাকে বলেছে একমাস হাসপাতালে থাকতে। আমার স্বামীই একমাত্র এই অবস্থায় আমাকে সাহায্য করতে পারে।’

রুবির পুরো নাম রাবেয়া সুলতানা রুবি। দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়াতে চাইনিজ স্বামী ও দুই সন্তানসহ বসবাস করছেন। এক সময় তিনি ইস্কাটনে সালমানদের পাশের বিল্ডিংয়ে থাকতেন।

সোমবার রুবি ইউটিউব লাইভে এসে বলেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। আমার হাজব্যান্ড করাইছে এটা আমার ভাইরে দিয়ে, এটা সামিরার (সালমানের স্ত্রী) ফ্যামিলি করাইছে। আর সব ছিল চাইনিজ মানুষ।’ এরপর দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়।

তিনিই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি যার কাছে প্রমাণ আছে— সালমান আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এমন দাবিও করেন রুবি।

সালমান মারা যাওয়া পর অনেকের মতো রুবিকেও পুলিশ সন্দেহ করে। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সালমান মা ও ভক্তরা বরাবরই বলে আসছিলেন— সালমানের মৃত্যুর ব্যাপারে রুবি কিছু না কিছু জানেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে সাংবাদিক সুপন রায়ের ‘সালমান শাহর অজানা কথা’ বইয়ে।

পরে বুধবার সকালের আরেক ভিডিওতে হত্যার দাবি থেকে সরে আসেন রুবি। বলেন, ‘হত্যা না আত্মহত্যা বলব না। আগেরবার ইমোশনাল হয়ে বলেছিলাম। এটা ইনভেস্টিগেশন করলে বের হবে।’

তখন রুবি জানান, সম্প্রতি ছেলে ভিকির কাছে সালমানের মৃত্যুর সময়কার একটা ঘটনা শুনে সন্দেহ হয় তার। সালমানের মৃত্যুর পরপরই সামিরা একটি পুটলি পাশের ছাদে ছুড়ে ফেলার জন্য ভিকিকে দেয়। এ ঘটনা শুনে তার সন্দেহ হয়।

২১ বছরে নানা সময়ে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা দাবি করেছেন রুবি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি জানতামই না এটি খুন হবে। আমি তো পোস্টমর্টেম রিপোর্টের উপর বিশ্বাস করে বারবার আত্মহত্যা বলছি।’

আরো বলেন, ‘আমি হত্যা বা আত্মহত্যার সাক্ষী ছিলাম না। আমি যা শুনেছি সামিরার মুখে শুনেছি। সামিরার মুখে শুনে আত্মহত্যা বলেছি।’

এদিকে কয়েকদিন ধরে রুবিকে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করে আসছিলেন সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা ও মোস্তাক ওয়াইজ। এবার সে কথা রুবি নিজেই বললেন।

রুবি ভিডিওতে বারবার স্বামী ও ছেলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তারা কেউ প্রকাশ্যে আসেননি। সব মিলিয়ে তৈরি হয়ে ধুম্রজাল। রুবির অভিসন্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি নিজেই হয়ে গেলেন রহস্য!

উল্লেখ্য, সালমানের হত্যা মামলাটি নতুন করে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুবির বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় রুবির ‘মানসিকভাব অসুস্থতা’ দাবি কোন দিকে মোড় নেয়।

১৯৯৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান সালমান শাহ। সব মিলিয়ে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার বেশিরভাগই হিট। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন এ নায়ক। সালমানের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দুই দশক ধরে বিতর্ক চলছে।

Open