দীর্ঘ প্রায় ০১ যুগ পর সামনে আসছে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ৫ দফা তারিখ পিছিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রায় ১২ বছর পর মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্ভ্যাব্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। দীর্ঘ সময় ধরে মেয়াদবিহীন কমিটি থাকায় স্থবির সংগঠনে নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী দল আ’লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেতে জোর লবিংয়ে পদ প্রত্যাশীদের কেহ কারো থেকে পিছিয়ে নেই।

তৃণমূল থেকে বার বার নির্বাচনের দাবী করা হলে সেতু মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ২০ মে তারিখ ঘোষণা করলেও রমজান মাস ও চলতি বন্যার কারণে আবার পেছানো হয় মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব জানান, এক সূত্রে জেনেছি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জেলা আ’লীগের সম্মেলন অনুষ্টিত হবার কথা রয়েছে। আমি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তিনি বলেন, আগামী কমিটিতে যদি যোগ্যতা সম্পন্ন দ্বায়ীত্বশীল আসেন তবে নেতা-কর্মীদের মঙ্গল হবে। তবে যিনি পদ পাবেন আমি তার সাথে কাজ করবো। তবে, মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, জেলা আ’লীগের কাউন্সিলের তারিখ এখনো জানানো হয়নি। সামনে হয়তো সম্মেলনের তারিখ আসতে পারে। সম্মেলনে তিনি সভাপতি প্রার্থী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন বলবোনা সময় আসলে জানাবো।

সম্প্রতি জেলার সকল ইউনিয়নে কাউন্সিল সম্পন্ন হওয়ায় অভিভাবক সংগঠনে নির্বাচনের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে জোর লবিং করছেন বলে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান জেলা সভাপতি ও সংসদ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ,সংসদ সদস্য ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি সৈয়দা শায়রা মহসীন, সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, সহসভাপতি মোঃ ফিরোজ,সদস্য ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডি আইজি সৈয়দ বজলুল করিম(বি,করিম), সহসভাপতি মুহিবুর ররহমান তরফদার রয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল, জেলা আ’লীগের সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব,সদর আ’লীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি মসুদ আহমদ, পৌর মেয়র ও সাবেক যুবলীগ সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় ২০১০ সালের শেষ দিকে। ত্রিবার্ষিক কমিটিতে ১১ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে। ওই সম্মেলনকেন্দ্রিক দ্বন্ধে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ে জেলা আওয়ামী লীগ দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

সম্প্রতি দুই গ্রুপের নেতাদের নিয়ে ঢাকায় বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এতে দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় গ্রুপের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, সব সাংগঠনিক থানার সম্মেলন শেষ করে ২০ মে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য। এ নির্দেশনা সামনে রেখে উভয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ২৪ মার্চ বর্ধিত সভা করে সব সাংগঠনিক থানার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে। এর পর কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, থানা সম্মেলন স্থগিত করে নির্ধারিত তারিখে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য। সম্মেলন-পরবর্তী সময়ে নতুন জেলা কমিটি সাংগঠনিক থানার সম্মেলন করবে।

জেলা আওয়ামী লীগের অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ও ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্র থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

Sharing is caring!

Loading...
Open