ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হতে চান তার স্ত্রী লুনা

সুরমা টাইমস ডেস্ক ::গত পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা সিলেটের বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জে প্রার্থী হতে চান তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

এই লক্ষ্যে স্বামী নিখোঁজের পর থেকে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছেলের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য সফরে থাকা লুনা বৃহস্পতিবার লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।পূর্ব লন্ডনের থাই থাই রেস্টুরেন্টে এই মতবিনিময়ে বিএনপি নেতারা ছাড়াও ইলিয়াস-লুনা দম্পতির ছেলে আবরার ইলিয়াস ও লাবিব শারার এবং ইলিয়াস আলীর ভাই আসকির আলী ছিলেন।বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ।ওই রাতে ঢাকার মহাখালীর বাসার কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার গাড়ি পাওয়া গিয়েছিল।বিশ্বনাথের সাবেক সাংসদ ইলিয়াসকে সরকার ‘গুম’ করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।তার সন্ধান পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তাহসিনা রুশদীর লুনা।তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার পরে তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি চেষ্টা করবেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা কোনো প্রতিফলন পাইনি।”ইলিয়াস আলী একজন ‘ভালো সংগঠক ও আপসহীন’ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে তাকে ‘গুম করা’ হয় বলে মনে করেন তার স্ত্রী।লুনা বলেন, স্বামী নিখোঁজের পাঁচ বছর পেরোলেও এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। “আমরা এখনও আশায় আছি, উনি ফিরে আসবেন-এটা আমাদের বিশ্বাস।”বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীতে থাকা লুনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দল নির্বাচনে গেলে এবং পার্টি তাকে মনোনয়ন দিলে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ আসনে নির্বাচন করবেন। এজন্য এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ওই আসন ছাড়া অন্য কোথাও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নেই বলে জানান লুনা।তিনি বলেন, এলাকার মানুষের প্রতি স্বামীর দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি তাদের সাথে আছেন।বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশেও ইলিয়াস আলীর জায়গাটি ধরে রাখতে তাকে কিছু ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। “এ প্রসঙ্গে এলাকার নেতা-কর্মীদেরও একটি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।”এক প্রশ্নের জবাবে লুনা বলেন, বাংলাদেশে চলাফেরায় বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে। অতীতের মতো স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন না, এখন ‘অনেক নিয়ন্ত্রিত’।“লন্ডনে আসার প্রাক্কালে আমাকে বাধা প্রদান করা হয়। এয়ারপোর্টে আটকে রাখার ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারেনি। আদালতে যেতে হয়েছে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য এটা হয়রানি। “কোর্টের অর্ডার নিয়ে আসার পরেও বলা হয়েছে, আমাকে বিলেত আসতে দেওয়া হবে না।”মতবিনিময় সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি তৈমুছ আলী, ড. মুজিবুর রহমান, কালাম আজাদ, গুলজার আহমদ ও সিলেট বিএনপির নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open