লিটু হত্যাকান্ডের ১৫দিনেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি :: বিয়ানীবাজারে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু হত্যাকান্ডের ১৫দিন অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৪ আসামীকে রিমান্ডে এনেও তেমন কোন তথ্য উদঘাটন করতে না পারায় অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। তাছাড়া এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি এঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও। যার জন্য এই হত্যাকান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয় ও হতাশা।

হত্যাকান্ডের ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি হত্যা রহস্য এনিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহত লিটুর পরিবারও।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিহত লিটুর বাবা খলিলুর রহমান খলিল বলেন, “আমরা এমন এক দেশে বসবাস করি, যেখানে হত্যাকান্ডের পরও কোন বিচার পাওয়া যায় না”। উল্টো হেনস্তা হতে হয়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ ইতোমধ্যে আমার ছেলেকে হত্যা করার দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু পুলিশ রিমান্ডে এনেও আসামীদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারলো না। তাহলে কি আমি জানবো না, আমার ছেলের হত্যাকারী কে? এমন প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি তাঁর একমাত্র ছেলের হত্যাকারীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করার দাবী জানান।”

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, লিটু হত্যাকান্ডের বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যার কারণে পুলিশও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এরপরও পুলিশের দাবী, আসামীদের রিমান্ডে এনে উদঘাটন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

এব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, লিটু হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি আমরা। দু’দিনের রিমান্ডে আসামীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ১০২ নং কক্ষে নিজ গ্রুপের নেতাকর্মীদের পাশেই আকস্মিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নির্মমভাবে নিহত হন উপজেলা ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের সক্রিয় কর্মী ও পৌরশহরের খাসা পন্ডিতপাড়ার খলিলুর রহমান খলিলের একমাত্র পুত্র খালেদ আহমদ লিটু (২৬)। এঘটনায় পুলিশ একই গ্রুপের ৩ জনকে ঘটনার পরই আটক করে এবং রাতে একজনকে আটক করে মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করলেও এর রহস্য উদঘাটন করতে পারে নি। এঘটনায় নিহত লিটু’র বাবা খলিলুর রহমান খলিল বাদী হয়ে পাভেল গ্রুপের নেতা পুলিশের হাতে আটক ফাহাদ (২৫), কামরান (২৬), এমদাদ (২৫), দেলোয়ার হোসেন মিষ্টু (২৭) কে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ছাড়াও এজাহারনামীয় আসামী করা হয়েছে একই গ্রুপের কাওছার (২৬), শিপু (২৪) ও সাহেদ (২৭)কে। আটক ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের পর আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তাদের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে শনিবার রাতে তাদের সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রাপ্তির দাবী করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদের আবারো আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open