আত্মহননে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে সিলেটে দম্পতি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি :: বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারস্থ ভাড়া বাসায় আত্মহননকারী যমুনা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক স্বজল কান্তি দাস আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুজিব কান্তি দাস বাদী হয়ে স্বজল কান্তিকে আত্মহননে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বিয়ানীবাজার থানায় তিনি এই মামলা দায়ের করেন।

এঘটনায় পুলিশ একই ব্যাংকের সিলেট বন্দরবাজার (মধুবন মার্কেট) শাখার কর্মকর্তা কামরুন নাহার স্বপ্না (৪৫) ও তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী আলী আহমদ সেলিমকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে সিলেট শহরের হাউজিং স্টেট’র বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, যমুনা ব্যাংক কর্মকর্তা স্বপ্নার সহযোগিতায় তার স্বামী ব্যবসায়ী আলী আহমদ সেলিম প্রথমে ২৫ লাখ এবং পরবর্তীতে স্বজনদের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে আরো ঋণ (লোন) নেন তিনি। সব মিলিয়ে এ দম্পতি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু বিরাট অংকের ঋণ নেয়ায় তারা ব্যাংকের পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি শুরু করেন। বিষয়ে স্বজল কান্তির সাথে তাদের বেশ কয়েকবার কথা চালাচালিও হয়। কিন্তু তাতে কোন লাভ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন ব্যাংক ব্যবস্থাপক স্বজল কান্তি দাস। এদিকে এই দম্পতির মোটা অংকের এ ঋণকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের চাপ এবং এ দম্পতির প্রতারণার বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে স্বজল কান্তি দাস আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্বজনদের অভিযোগ। তাছাড়া আত্মহত্যার পর ওই ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কক্ষ থেকে পাওয়া সুইসাইড নোটেও আটককৃত এই দুইজনের নাম রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সুইসাইড নোটে কি লেখা রয়েছে, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা আত্মহত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে স্বজল কান্তি দাসের ভাই সুজীব কান্তি দাস বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় আত্মহত্যা প্ররোচিত মামলা (০১/০১-০৭-১৭) দায়ের করেন। এরপর পুলিশ সিলেট থেকে ওই দম্পতি আটক করে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open