সিলেটে অভিনব পন্হায় হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি!

সুরমা টাইমস ডেস্ক: মহাসড়কে একটি প্রাইভেট গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-০৩৩৯) থামালো হাইওয়ে পুলিশ। গাড়ির মালিক সব কাগজ দেখানোর পরও বলা হলো মিটমাট করতে। গাড়ির মালিক রাজি হলেন না। তাই রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ব্যতীত গাড়ি চালানোর দায়ে একটি মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি ঘটে সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জ জয়কলস এলাকায়। শুধু সুনামগঞ্জ সড়ক নয়, এভাবে সিলেট-তামাবিল সড়কে মামলার ভয় দেখিয়ে ইচ্ছেমতো চাঁদাবাজি করছে হাইওয়ে পুলিশ। একইভাবে প্রসিকিউশন শাখার অসাধু কর্মকর্তারা অফিসে গলাকাটা জরিমানা আদায় ও গাড়ি ছাড়তে চাঁদা তোলেন বলে একাধিক অভিযোগ ওঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের দাসপাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মাসুক মিয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজি করানো হয়। জাফলং থেকে ওসমানীনগর অঞ্চলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ রাস্তায় এই চাঁদাবাজি করে থাকে। আবার রয়েছে মাসোহারা চাঁদাবাজি। দক্ষিণ সুরমা বাইপাসের একটি ট্রান্সপোর্টের কিছু গাড়ি তল্লাশি না করতে দাসপাড়া ক্যাম্প প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। খুব সকালে ঢাকা থেকে মুরগি বোঝাই পিকআপ আসে। এসব পিকআপে অনেক সময় থাকে অবৈধ পণ্যও।

তল্লাশি বা কাগজপত্র না দেখতে প্রতিমাসে নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে। একটি বিস্কুট কোম্পানির গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ। পুলিশ যাতে গাড়ি না ধরে, সে জন্য প্রতিমাসে কয়েকটি স্ট্যান্ডের দালালদের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশ মাসোহারা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাজপুর অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে শাহ জামালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা, হরিপুর-জাফলং-জৈন্তার অটোরিকশার জন্য নুরুল হক নামের একজনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর ফলে গ্যাস নেওয়ার অজুহাতে মহাসড়কে দিব্যি অটোরিকশা চলছে। প্রসঙ্গত এই নুরুল হক গত পাঁচ মাস আগেও সিএনজি অটোরিকশা চুরির মামলায় জেলে ছিলো,জামিনে মুক্ত হয়েই সে আবারও বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। মিতালি পরিবহণের বাসে মাছ বহনের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। কদমতলী ও কুমিল্লার কিছু ট্রাক মহাসড়কে সিগন্যালের বাইরে থাকার জন্য ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে থাকে। নগরীর কাজিরবাজারের আব্দুল মান্নানের ১৫টি মাছের ট্রাক থেকে হাইওয়ে পুলিশ মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তামাবিল-জাফলংয়ের টেম্পো থেকেও কাগজপত্র না দেখার জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি জব্দ করে। নিহতের স্বজনদের হাসপাতালে পাঠিয়ে তড়িঘড়ি করে পুলিশ নিজে বাদি হয়ে একটি মামলা করে বসে। পরে নিহতের এই মামলাকে পুঁজি করে চালকের সাথে আপসের নামে টাকা আদায় করে থাকে। চিকনাগুলে ট্রাকচাপায় একজন মারা যান। এভাবে মামলা দিয়ে চালক রনির কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩৫ হাজার টাকা। ওই টাকা নিহতের পরিবার পায়নি বলে অভিযোগ আসামি রনির।

এদিকে, তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের অফিসেও চলে গাড়ি ছাড়ানো বা জরিমানা আদায় নিয়ে করা হয় চাঁদাবাজি। সেখানে গাড়ি নেওয়ার পর জরিমানার কথা বলে ৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়ে থাকে। দরকষাকষির পর ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় রফা হয়ে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অল্প পরিমাণে জমা দেখিয়ে পুরোটা মেরে দেন কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা।

উপরমহলেও এই টাকার ভাগ যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর কেউ টাকা কম দিয়ে গাড়ি ছাড়াতে চাইলে তাঁর গাড়ি বুধবারের শুনানির অজুহাতে ১০ দিন আটকে রাখা হয়। এমনকি এই ১০ দিনে এসব গাড়ির ব্যাটারি ও মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Open