কুলাউড়ায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত

নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরীবাজার জিএস কুতুব শাহ আলিম মাদ্রাসা সুপার আবু আইয়ুব আনসারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস পর তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ৬৯ লাখ ১১ হাজার ৬৬৮ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য মাদ্রাসা সুপার আবু আইয়ুব আনসারী অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাননি বলে জানান। বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মার্চ মাসে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস পর তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো: গোলাম রাব্বি।

৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদস্য ও অডিটর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার এবং উপজেলা কৃষি অফিসার স্বাক্ষরিত এ তদন্ত রিপোর্টে মন্তব্য কলামে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বিভিন্ন খাতে মাদ্রাসা সুপার মোট ৬৯ লাখ ১১ হাজার ৬৬৮ টাকা আত্মসাত করেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা সেকায়েপ প্রদত্ত।

রেজিস্টারসমূহ, নথিপত্র, ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য কাগজাদি পর্যালোচনা করে চৌধুরীবাজার গাউছিয়া সুন্নিয়া কুতুব শাহ আলিম মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। তদন্তে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু আইয়ুব আনসারী কর্তৃক অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ ব্যপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো: গোলাম রাব্বি জানান- তদন্ত প্রতিবেদন মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে দেয়া হয়েছে। এখন ম্যানেজিং কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সূত্র জানায়- মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু আইয়ুব আনসারী ২০০৩ সালে সুপার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় একযুগ দায়িত্ব পালনকালীন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কুতুব শাহ’র (বাচ্চাপীর) কাছ থেকে সুপারের দেয়া হিসাবমতে ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

হঠাৎ একটি বিষয়কে ঘিরে সন্দেহ হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন স্বয়ং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ওই সময় সভাপতি মাদ্রাসার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইতে গেলে সুপারের মদদপুষ্ট বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় দু’দফা হামলা ও ভাংচুর চালায়।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুতুব শাহ (বাচ্চাপীর) অভিযোগ করেন- এলাকায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা আমার স্বপ্ন ছিলো। অনেক ত্যাগ ও কষ্টে প্রতিষ্ঠানটি আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমি দেশ ও বিদেশের প্রবাসীদের কাছ থেকে এনে বিশ্বাস করে সুপারকে বিভিন্ন সময়ে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমার সরল বিশ্বাসের তিনি অমর্যাদা করেছেন। খাতায় সুপারের হাতের লেখা অনুসারে সেই টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই টাকাগুলো সুপার সঠিকভাবে ব্যয় না করে আত্মাত করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাদ্রাসা মাওলানা আইয়ুব আনসারী জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। সম্প্রতি মাদ্রাসার দপ্তরী রইছ উদ্দিনকে নিয়ে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এটাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছিলো বলে তিনি দাবি করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open