গোয়ালাবাজারে কলেজ ভবন নির্মাণে অনিয়ম: প্রকৌশলীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি::

সিলেটের ওসমানীনগরে গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে কাজের অনিয়মের অভিযোগে দুদকের পর প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামী করে ওসমানীনগর থানায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মুকিত আজাদ বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় (মামলা নং-০৯) দায়ের করেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম(৪৫), সিলেট কোতোয়ালী থানার রায়নগর সোনার পাড়ার মৃত কানাই লাল দের ছেলে ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পুষ্পা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাখাল দে (৪২), দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সদরখলা গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম ওরফে পংকি(৪৩), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের কাজী আলা উদ্দিনের ছেলে ও শাহ আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী শাহ আলম(৫২), সিলেট বিমান বন্দর থানার মজুমদারী তরঙ্গ ২/৪ চৌকিদেখি ১৬৪/এ এহসান ভিলার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে লোকমান হোসেন(৩৯)সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮জনকে মামলায় আসামী করা হয়।

গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মুকিত আজাদ বলেন, প্রকৌশলী ও দুই ঠিকাদারসহ ১৩জনকে আসামী করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছি।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা থানায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রকৌশলী ও দুই ঠিকাদারসহ ৫জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮জনকে আসামী করা হয়েছে। এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের নির্মাণাধীন চার তলা ভবনের নির্মাণ কাজ গত শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন করেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় পরিদর্শনকালে নির্মাণাধীন ভবনের লিন্টার ও পিলার ভেঙ্গে দেখা যায় ভেতরে রড এবং রডের জালি ছাড়াই ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। ভবনে ব্যবহৃত ইট কংক্রিটসহ অন্যান্য মালামাল নিম্নমানের।

অনিয়ম গুলো হাতেনাতে ধরা পড়লে কার্মস্থলে থাকা শাহ আলম এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী শাহ আলম ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে ওসমানীনগর থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন এমপি এহিয়া।

এঘটনায় পর দিন রোববার কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মুকিত আজাদ বাদী হয়ে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ ১৩জনকে অভিযুক্ত করে দুদক সিলেটের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। গত রোববার রাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ওসমানীনগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open