ওসমানী নগরে পুলিশকে প্রভাবিত করে নিরীহ লোকজনকে হয়রানীর অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানী নগরে প্রভাশালীদের অবৈধ বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয়ায় কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওসমানী নগরের সাদীপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামবাসী। রবিবার দুপুরে ওসমানী নগর উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বৃহত্তর তাজপুরের মানুষ ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বর্তমানে বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, মাজার, মসজিদসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা হুমকীর মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিগত ৬ জুলাই থেকে ভাঙন কবলিত তাজপুর দক্ষিণ মৌজার বর্তমান জে এল নং ৩৯ (সাবেক জে এল ৪২) থেকে ড্রেজার মেশিন দ্বারা অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে তালুকদার এন্টারপ্রাইজ। এতে বৃহত্তর তাজপুর (পূর্ব তাজপুর, লামা তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর) গ্রামবাসী ক্ষোব্ধ হয়ে উঠে। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় গত ৯জুলাই গ্রামবাসী ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ড্রেজার মেশিনটি আটক করে নিজেদের জিম্মায় নেন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পুণঃরায় বালু উত্তোলন না করার শর্তে ড্রেজার মেশিনটি তালুকদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী আশরাফ উদ্দিন আহমদের জিম্মায় দেন। কিন্তু ঐদিনই মৌলভীবাজার মডেল থানায় তাজপুর গ্রামের ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১৯জনকে অভিযুক্ত করে একটি মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন মৌলভীবাজার সদরের শেরপুর (মুক্তিনগর) গ্রামের মোঃ রাসেল মিয়া। পরবর্তী ১৩ জুলাই থেকে আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে ‘তালুকদার এন্টারপ্রাইজ‘। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলে দুইপক্ষে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) কবির আহম্মেদ’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐদিন রাতে প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশকে প্রভাবিত করে ওসমানী নগরের বন্যা কবলিত দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের ঘুমন্ত নিরীহ লোকজনকে গভীর রাতে হয়রানী শুরু করে। কোন আসামী ধরতে না পেরে এসআই আবু সাঈদ বাদি হয়ে বৃহত্তর তাজপুর গ্রামের দিনমজুর, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৯৬জনকে অভিযুক্ত করে ষড়যন্ত্রমূলক পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে দিন আনা দিন খাওয়া লোকজন পুলিশি হয়রানী এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পূর্বতাজপুর গ্রামের ফুজায়েল আহমদ। উপস্থিত ছিলেন, বৃহত্তর তাজপুর গ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক খয়ের মিয়া, সৈয়দ নজিব আলী, শাহ ইসমাইল আলী, আবদুল হামিদ, মোঃ শফিক উদ্দিন, সৈয়দ তখলিছ মিয়া, শাহ শওকত আলী, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ, আফছর উল্যা, ইমরান হোসেন, সৈয়দ মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান প্রমূখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open