অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওসমানীনগরের তিন গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা।

কুশিয়ারা নদীর শেরপুর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সাম্প্রতিক ছবি নিজস্ব প্রতিনিধি: অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওসমানীনগরের তিন গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। কতিপয় প্রভাবশালীদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তারা।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গ্রামের নিরীহ দিনমজুর লোকদের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

এলাকাবাসী জানান, কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী সাদীপুর ইউনিয়নরে পূর্ব তাজপুর, লামা তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর গ্রাম দীর্ঘ দিন ধরে নদী ভাঙন কবলিত। গত ২০ বছরে শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।

গত ৯ জুলাই তালুকদার এন্টার প্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠান পূর্ব তাজপুর এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন শুরু করলে তিন গ্রামের লোকজন সমবেত হয়ে বাধা প্রদান করে। এসময় ড্রেজার মেশিন আটকে নিজেদের কাছে নিয়ে নেয় গ্রামবাসী।

খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ড্রেজার মেশিনটি মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু ঐ দিন চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে তালুকদার এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুর গ্রামের মোঃ রাসেল মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ১৪জনের নাম উল্লেখসহ ১৯জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার পরপরই আসামী গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতায় আতংকিত হয়ে উঠেন বন্যা কবলিত গ্রামের লোকজন। ১৪ জুন গভীর রাতে বন্যা কবলিত গ্রামে আসামী গ্রেফতার অভিযান চালায় মৌলভীবাজার থানা পুলিশ। ঐদিন রাতে স্থানীয় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে প্রচার করা হলে ডাকাত প্রতিহত করতে গ্রামের লোকজন বেরিয়ে আসেন।

পুলিশের দাবি পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আসামীরা তাদের তাড়া করে মৌলভীবাজার সীমানায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পুলিশ। এঘটনায় মৌলভীবাজার থানার এসআই আবু সাঈদ বাদী হয়ে ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৯৬জনকে অভিযুক্ত করে একটি পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করেন।

এলাকাবাসীর দাবি মামলার অধিকাংশ আসামীই শ্রমিক ও দিন মজুর। পুলিশি গ্রেফতার আতংকে শ্রমজীবি লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে পূর্ব তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর ও লামা তাজপুর গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন বলেন, আমার বাড়ি খসরুপুর গ্রামে। রাতে ঘুমিয়ে থেকেও আমি এসল্ট মামলার আসামী হয়েছি।

বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নুরুল হক খয়ের বলেন, গ্রামকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক নিরীহ লোক। গ্রেফতার আতংকে তারা বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যার কারণে তাদের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে রয়েছেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে। বন্যা আক্রান্ত এসব গ্রামের নিরীহ লোকজন হয়রানীর শিকার হলে আমরা সহ্য করবো না। আমি ঐ এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমরা কোন গ্রামকে ভাঙনের মুখে ফেলতে পারি না। অপরিকল্পিত ভাবে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিংয়ের কারণেই মানুষ আজ দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী রাসেল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাঈদ জানান, চাঁদাবাজি মামলার আসামী ধরতে গেলে মসজিদের মাইকে ডাকাত মাইকিং করে গ্রামবাসী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমি সহ প্রায় ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ফাকাগুলি চালিয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।

অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথা মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ বলেন, মামলা মিথ্যা কিনা তা তদন্ত শেষ না হওয়ার আগে বলা যাবে না।

Sharing is caring!

Loading...
Open