সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সিলেটে যেমন আছে অন্যান্য জায়গায় তা নেই- বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে রাজনৈতিক পরিবেশ অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা নেতিবাচক ধারণা থেকে সরে আসলে রাজনৈতিক পরিবেশ আরো সমৃদ্ধ হবে। এজন্য প্রয়োজন একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সৌহার্দপূর্ণ আচরণ বজায় রাখা। আজ মঙ্গলবার ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে “সমৃদ্ধ রাজনৈতিক -পরিবেশ প্রত্যাশা ও করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সিলেটের সোবহানীঘাটস্থ হোটেল ভ্যালী গার্ডেনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় এক কাতারে বসেছিলেন সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

সিলেটের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে এসময় বক্তারা আরো বলেন, ক্ষমতাসীন দল ভালো রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করলে পরবর্তীতে যে দল ক্ষমতায় আসবে তারাও ভালো পরিবেশ বজায় রাখবে। তাই অতি উৎসাহী জিনিস যাতে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট না করে সেদিকে সকলকে নজর রাখতে হবে।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিলেট রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অনিন্দ রহমান এবং প্রাক্তন ফেলো ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়্যুমের সঞ্চালনায় সভায় প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিভূতি ভূষণ ব্যাণার্জি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) ডেপুটি চিফ অব পার্টি জে ব্রায়ান ওডে বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করে ডিআই। ডিআই মূলত যুব রাজনীতিবীদ ও নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। একই সাথে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে বিগত ৫ বছর আগে আমাদের যে প্রকল্প (গনতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্থা) ছিল সেটি সফল হয়েছে। তারই ধারাবহিকতায় আমরা আরেকটি প্রকল্প ‘এসপিএল’ হাতে নিয়েছি।

প্যানেল বক্তা হিসেবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে আমরা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে এখনো গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করছে। তারই অনন্য নিদর্শন বিভিন্ন চ্যানেলের টকশো। এটি গনতন্ত্রের একটি অংশ। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেকের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সিলেটে যেমন আছে অন্যান্য জায়গায় তা নেই।

আগামী নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে। দেশ ও দেশের মানুষকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে হবে।

সিলেট বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীতে বাধা প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে কামরান বলেন, বিএনপির কোন কার্যক্রমে বাধা দেয়ার জন্য আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে কখনো বলা হয়নি। আমরা চাই প্রশাসনও এখানে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক। আমরা সিলেটে ভালোভাবে রাজনীতি করতে চাই।

দেশের গনতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে হবে উল্লেখ করে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের নিজেদেরকে সহনশীল হবে হবে। একে অন্যকে ভালবাসার মাধ্যমে এক হওয়ার মনমানসিকতা তৈরি করে সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, সিলেটে একটি সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘদিন থেকে বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিকে আমরা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

সরকার বিরোধী আন্দোলন সকল সময়েই হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশকে আরো সুন্দর করতে চাইলে অন্যদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। অতি উৎসাহী জিনিস যাতে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট না করে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোনো ধরণের মিছিল মিটিং করা সুযোগ দেয়া হয়না। যদিও দেয়া হয়, গেইট লাগিয়ে সেটা পালন করতে হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভপতি নাসিম হোসেইন বলেন, সিলেটে সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকার কারণে বিগত নির্বাচন গুলো সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে কাজ করতে হবে।
এককভাবে ভূমিকা রেখে সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, একজনকে খুশি করতে গিয়ে যাতে সমস্ত পরিবেশ নষ্ট করলে হবে না। সকলের সময় এক যায় না।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিভূতি ভূষণ ব্যাণার্জি বলেন, গনতন্ত্র মানেই নির্বাচন। অনেক কিছুই এর সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কি না সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষা মূল ভূমিকা হচ্ছে রাজনীতিবিদদের। পুলিশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাত্র। সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, সহায়ক শক্তি কিভাবে কাজে লাগাবে সেটা নির্বাচন কমিশন ভালভাবে বুঝে।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, সমৃদ্ধি রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত। মাঠ পর্যায়ের অবস্থান সকল রাজনৈতিক দলকে বিবেচনায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দকে পাচটি ভাগে বিভক্ত করে তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, নাগরিকদের ভূমিকা, গণমাধ্যমের ভূমিকা, প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সম্পর্কে মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open