কুলাউড়ায় নিজ মেয়েকে খুন করলো পাষন্ড পিতা!

বিশেষ সংবাদ::

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাগৃহাল গ্রামের আছকর আলীর মেয়ে রেহানা বেগমের (১৭) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। মেয়ের প্রেমিকের সাথে বিয়ে না দিতে এবং নিজের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে রেহানাকে হত্যা করেন তার পিতা।

মেয়েকে হত্যার কথা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্বীকারও করেছেন আছকর আলী।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কানাই লাল চক্রবর্ত্রী জানান, রেহানা বেগমের সাথে একই ইউনিয়নের আশ্রয় গ্রামের লালা মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। এরই সুবাদে লাল মিয়া বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় রেহানা বেগমের বাড়িতে। কিন্তু বিষয়টি মেনে নেননি রেহানা বেগমের পিতা আছকর আলী। উল্টো মেয়েকে হত্যা করে দায় চাপানোর চেষ্টা করে লাল মিয়া ও তার সহযোগিদের উপর। কিন্তু বিষয়টি পুলিশের কাছে সন্দেহ হলে ঘাতক পিতাকে আছকর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও আছকর আলীকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে একাধিকবার তদন্ত করে। রাতে পুলিশের কাছে হত্যার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। এরপর আবারও তাকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযানে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করে।

আছকির আলী জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে জানায়, মেয়ের প্রেমিকসহ কিছু প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আছকর আলী স্ত্রীসহ এক ছেলে ও এক মেয়েকে শ্বশুড় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৩টায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়ে রেহানা বেগমকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। রেহানা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে রক্তমাখা জামা ছুরি লুকিয়ে ব্লেড দিয়ে নিজের মাথায় ও বাম পিঠে কেটে চিৎকার শুরু করে।

টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, স্থানীয় ৩ জন ইউপি সদস্য, নয়াবাজার কমিটির ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি জানান, তাদের সামনে আছকির মিয়া স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোড়া ও ব্লেড লুকানো স্থান থেকে বের করে দিয়েছে।

কুলাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিনয় ভুষন রায় জানান, নিহত রেহানা বেগমের মা শাহানা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক পিতা আছকির মিয়াকে সোমবার ১০ জুলাই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open