ইউপি সদস্যর উপর ১২ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধি : নবীগঞ্জে মোবাইল ফোনের মেমরিকার্ড চুরির অভিযোগে ১২ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে এক ইউপি সদস্য। পারভেজ আহমদ নামের ওই শিশুকে হাত পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন করেন সাবেক ইউপি সদস্য জাহির আলী ও তার পরিবারের লোকজন। ছোট ভাই বাবুলের সামনেই পারভেজকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে পারভেজ এর ভাই ৯ বছরের শিশু বাবুল মিয়া। গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামে মধ্যযুগীয় বর্বর ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গজনাইপুর ইউনিয়নরে ২নং ওয়ার্ড কায়স্থগ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জাহির আলীর বাড়িতে কাজ করে আসছে একই গ্রামের আমির আলীর দ্বিতীয় পুত্র পারভেজ আহমেদ। সোমবার জাহির আলীর ঘর থেকে মোবাইল ফোনের একটি মেমরি কার্ড হারিয়ে যায়। ইউপি সদস্য পরিবারের সন্দেহ পারভেজ মেমরি কার্ডটি চুরি করেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় পারভেজ ও তার ভাই বাবুল মিয়া জাহির আলীর বাড়িতে যায়। এ সময় জাহির আলীর বড় বোন সোনাবান বেগম পারভেজকে বলেন, তুই মেমরি চুরি করছস।

তারপর পারভেজকে জাহির আলী ডেকে নিয়ে তার ভাই রহমান মিয়া, এবং ভাগনী জামাই শাহ নুর মিয়ার সহায়তায় হাত ও পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে। রুল ও দা দিয়ে জাহির আলীর ভাইপো টিটু মিয়া, বুলু মিয়ার পুত্র পারভেজ মিয়াসহ আরো কয়েকজন বর্বরোচিত পাশবিক নির্যাতন করে।

এ সময় পারভেজের ভাই বাবুল চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে জাহির আলীর লোকজন। মারধরের একপর্যায়ে পারভেজ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে তার হাতের বাঁধন খুলে দেয়া হয়। একপর্যায়ে পারভেজের অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে ছোট ভাই বাবুল টেনে হিঁচড়ে জাহির আলীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। চলে আসতে দেখে আবার ও তাদের পিছু ধাওয়া করে তারা। ওদিকে পারভেজের পরিবারের লোকজন পারভেজকে খুঁজতে জাহির আলীর বাড়ির দিকে ছুটে গেলে রাস্তায় পারভেজ এবং বাবুলকে দেখতে পায়। পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত পারভেজকে মঙ্গলবার রাত ১২টায় নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open