কুলাউড়ায় ইউএনও-র সাথে আ.লীগ নেতার অসধাচরনের অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিনিধি; মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে অসদাচরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে । গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আনূমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার ইউএনও অফিসে এ অসধাচরনের ঘটনা ঘটে ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আ.লীগ নেতা রেনু মিয়া কয়েকজন দলীয় ক্যাডার নিয়ে ইউএনও অফিসে ঢুকেন । তখন তিনি ইউএনও-কে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে বলেন,উপজেলা আইনশৃংখলা কমিঠি ও জলমহাল কমিঠিতে আমার নাম নেই কেন? এসময় ইউএনও কথা বলতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রেনু মিয়া। তিনি হৈ-হুল্লোড় শুরু করে গালমন্দ করতে থাকেন । তখন তার এহেনো আচরণে নিরুপায় হয়ে ইউএনও ভয়ে কাতর হয়ে যান । কোন উওর ছাড়াই একতরফা তার গালমন্দ সহ্য করতে হলো সরকারী এই কর্মকর্তাকে ! একপর্যায় তার হৈ-হুল্লোড় শুনে ইউএনও অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তার নিকট অনুনয়-বিননয় করে বুঝিয়ে তাকে অফিস থেকে বের করেন। পরে এ সংবাদ স্থানীয় উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য আ.লীগ নেতাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় । বর্তমানেও তার রেশ কাটেনি ।

এদিকে বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়,রেনু মিয়া উপজেলায় আ.লীগের দায়িত্বপালনের পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে শাসকদলের ক্ষমতা খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে যাচ্ছেন । সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অপব্যাবহার করছেন কুলাউড়া থানায় । বেশিরভাগ সময় কুলাউড়া থানার ওসি সামছুদ্দোহার টেবিলে বসে থাকেন তিনি । এবং বিভিন্ন মামলা,মোকাদ্দমার তদবির বাণিজ্য চালান ! ওসি সামছুদ্দোহার সাথে তিনি গড়ে তুলেছেন গভীর সখ্যতা ।

এ ব্যাপারে আ.লীগ নেতা রেনু মিয়ার সাথে কথা বলতে তার মুুঠোফনে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়া মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, এবং উল্টো প্রশ্ন করেন এ ব্যাপারটি আপনি কোথা থেকে জানলেন,আপনার মনে যা চায় তাই করেন বলে মুুঠোফনের সংযোগ কেটে দেন ।

এ বিষয়ে জানতে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নবাব আলী ওয়াজেদ খান বাবুর সাথে মুুঠোফনে যোগাযোগ করলে তিনি সুরমা টাইমস-কে বলেন,এ লোকটি বেয়াদব টাইপের তবে আমার নিকট এরকম কোন অভিযোগ আসেনি বা পাইনি, খুঁজ নিয়ে দেখবো । আপনি পারলে আ.লীগ নেতা সলমান ভাইর সাথে একবার যোগাযোগ করলে ভাল হয় । তিনি এবিষয়ে জানেন কি না ।

কুলাউড়া থানার ওসি সামছুদ্দোহার সঙ্গে মুুঠোফনে আলাপকালে তিনি বলেন,ভাই আমার আব্বা-আম্মার জন্য খতম পড়াচ্ছি এখন কিছু বলতে পারবো না, বলে লাইনটি কেটে দেন।

এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোহাম্মদ গোলাম রাব্বির সাথে মুুঠোফনে আলাপকালে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,বিষয়টি স্থানীয় এমপি মতিন স্যারকেও অবহিত করা হয়েছে । অপরদিকে সাংসদ সদস্য (এমপি) মতিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।

Sharing is caring!

Loading...
Open