জগন্নাথপুরে আসামী ধরতে গিয়ে মহিলাদের মারধরের অভিযোগ পুলিশের উপর!

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পুলিশ আসামী ধরতে গিয়ে মহিলাদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে পুলিশের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশ ও আসামী পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন গ্রেফতারকৃত আসামীর আত্মীয় আফরাতুন নেছা (৪০) ও আলেছা বিবি (৩৮)। তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিনে পুলিশের ভাষ্যমতে আহতরা হলেন- এস.আই আব্দুস সালাম (৪৬), এ.এস.আই অরুন সিংহ (২৯), এ.এস.আই শাহিন চৌধুরী (৩৭)।

ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে এসআই কবির সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কান্দারগাঁও (নোয়াগাঁও) গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে সফরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। যার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে জগন্নাথপুর থানার এসআই আবদুস সালাম সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ওই গ্রামে গিয়ে অভিযান চালিয়ে সফরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশ ও আসামী পক্ষের মধ্যে ‘দস্তাদস্তি’ ও এক পর্যায়ে ‘সংঘর্ষ’ হয়।

অপরদিকে আসামী সফরুল ইসলামের ভাতিজা মজর উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ আসামী ধরতে এসে ঘরের মহিলাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করেছে। পুলিশ প্রতিপক্ষের লোকজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পুলিশের ওপর কোনো হামলা করিনি। এটা ডাহা মিথ্যা কথা।’

স্থানীয় কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস হাসিম বলেন, ‘শুনেছি পুলিশ আসামী ধরতে গেলে মহিলারা চিল্লাচিল্লি করে। এতে পুলিশ দুই মহিলাকে পিটিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। পুলিশের ওপর হামলার কোন খবর জানি না।’

জগন্নাথপুর থানার এসআই আবদুস সালাম বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নিয়ে নৌকাযোগে ফেরার পথে আসামী পক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এতে আমিসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছি।’

জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের নিকট থেকে গ্রেফতারকৃত ওয়ারেন্টের আসামী ছিনিয়ে নিতে আসামীপক্ষের লোকজন পুলিশের সাথে দস্তাদস্তি ও ঠেলাধাক্কা দিয়ে এক অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বুধবার দুপুরে এসআই কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ গ্রেফতারকৃত আসামীকে সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open