থানা হাজতে আসামি নির্যাতনের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি -আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা।

স্টাফ রিপোর্টার: থানা হাজতে আসামি নির্যাতনের ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রিট আদালত-৫ এর বিচারক বেগম শারমিন খান আবেদনের শুনানী শেষে তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত পুলিশের দাখিল করা রিমান্ড আবেদনও খারিজ করে দেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলার বাদী থানা হাজতে ‘অকথ্য নির্যাতনের’ শিকার হওয়া সাইদুর রহমান নিজেই। তিন দিন হাজতে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গত ১৪ জুন আদালতে হাজিরের দিনই আসামি সাইদুর রহমান আদালতে এ মামলা দায়ের করেছিলেন। আর ওই মামলায় তিনি অভিযুক্ত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন ও সাব-ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামকে।

আবেদনে সাইদুর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী উল্লেখ করেন, ‘গত ১০ই জুন সিলেট থেকে নিজবাড়ি কোম্পানীগঞ্জের ঢোলাখালে ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে কাঠালবাড়ি নামের রাস্তা থেকে ওসি আলতাফ ও এসআই আমিনুল ইসলামসহ ১০-১২ জন লোক তাকে আটক করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।’

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সাইদুর রহমানকে থানা হাজতে নিয়ে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন হাজতের ভেতরে তাকে মারধর করেন। লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ওসি মারধর করে হালিমা বেগম নামের এক মহিলাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান।’ কিন্তু তার এই আবদার না মানায় ওসি থানা হাজতে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করে সাইদুর রহমান।

এদিকে, আজ বুধবার আদালতে দরখাস্থ করা এই আবেদনের শুনানী হয়। শুনানী শেষে সাইদুরকে মারধরের বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার আইনজীবী এডভোকেট জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সাইদুরের উপর নির্যাতনের ঘটনায় যে মামলা দেওয়া হয় সেটির শুনানী হয়েছে। শুনানী শেষে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই সঙ্গে আদালত কোম্পানীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর আরিফউল্লাহর দায়ের করা তিন দিনের রিমান্ডের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন।

সাইদুরের মামা বিল্লাল আহমদ জানিয়েছেন, ‘সাইদুরের উপর নির্যাতন কেন চালানো হলো, সেটিই আমাদের বড় প্রশ্ন। বিষয়টি আদালতে নজরে নেওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর পুরো ঘটনার বিবরণ জানিয়ে সাইদুরের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোর্টারের সিকিউরিটি সেলের কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open