কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনের নির্যাতন ও জনহয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।

সুরমা টাইমস ডেস্ক : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলতাফ হোসেন ‘টাকার বিনিময়ে মানুুষকে হয়রানি ও জনজীবন বিপন্ন করতে দ্বিধাবোধ করেন না’। তিনি ‘জোর করে বিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত’। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ঢোলাখাল গ্রামের মৃত আকলম হোসেনের ছেলে লুৎফুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ছোট ভাই সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসাথে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনের ‘নির্যাতন’ ও ‘নিপীড়নের’ সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লুৎফুর রহমান বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনের নির্যাতন ও জনহয়রানীর একটি করুণ চিত্র তুলে ধরার প্রয়াসেই এ সংবাদ সম্মেলন। কোম্পানীগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি আলতাফ হোসেন টাকার বিনিময়ে জনহয়রানি ও জনজীবন বিপন্ন করে তোলার মতো কাজ করতে কোন দ্বিধাবোধই করেন না। এমনকি জোর করে বিয়েশাদি দিয়ে দিতেও সিদ্ধহস্ত তিনি। এ ধরনের একটি নির্মম ও ন্যাক্কারজনক নির্যাতনের ঘটনার শিকার আমাদের পরিবার। আমার ছোট ভাই সাইদুর রহমানকে (২৭) বেআইনীভাবে প্রায় ৪ দিন থানাহাজতে আটকে রেখে একটি নষ্টা মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দিতে না পেরে তার উপর চালিয়েছেন অমানুষিক নির্যাতন। এখন চালিয়ে যাচ্ছেন আইনী নিপীড়নের স্টিম রোলার।’

লুৎফুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে জানান, গত ১০ জুন সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোম্পানীগঞ্জ সদরের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে নামামাত্র হালিমা আক্তার (১৮) নামের এক ‘নষ্টা মেয়ে’ সাইদুর রহমানকে ‘ঝাঁপটে ধরে’ এবং ‘বিয়ে করে উঠিয়ে নিতে’ বলে। ওই সময় সাইদুর রহমান ‘বিয়ে করতে অস্বীকৃতি’ জানালে হালিমা আক্তার সাথে থাকা ‘গুন্ডাপান্ডা দিয়ে’ সাইদুরকে একটি দোকানে ‘আটকে রাখে’।

লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনকে জানাই। তিনি থানার এসআই আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ পাঠিয়ে আমার ভাই সাইদুর রহমানকে উদ্ধার করে হালিমা আক্তারসহ থানায় নিয়ে যান। থানায় সাইদুর রহমানের কাছ থেকে ওসি আলতাফ সম্পূর্ণ ঘটনা শোনেন এবং তাকে ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকারও করেন। কিন্তু দুই ঘন্টার মধ্যেই অজ্ঞাত কারণে সম্পূর্ণ পাল্টে যান ওসি আলতাফ। তিনি নষ্টা ওই মেয়েকে বিয়ে করার জন্য আমার ভাইসহ আমাদের উপর নানাবিধ চাপ সৃষ্টি করেন।’

হালিমাকে ‘বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায়’ সাইদুর রহমানকে ‘বেআইনীভাবে’ ওসি আলতাফ থানায় চারদিন আটকে রেখে ‘শারীরিক নির্যাতন’ চালান বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের এমন কোন অঙ্গ নেই যে যাতে লিলা ফুলা ও চেছা জখমের চিহ্ন নেই। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, ওই মেয়ের বাড়ি থানার সন্নিকটে হওয়া সত্বেও তাকে রহস্যজনক কারণে ওসি আলতাফ তিনদিন তিনরাত থানায় রাখেন।’

লিখিত বক্তব্যে লুৎফুর রহমান বলেন, ‘গত ১২ জুন বিকেলে ওই মেয়েকে বাদী বানিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৭ ধারায় একটি মামলা {নং-১৬(৬)১৭}নিয়ে সাইদুরকে গ্রেফতার দেখিয়ে চারদিনের মাথায় ১৩ জুন আদালতে সোপর্দ করেন ওসি আলতাফ। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ সাইদুরের কোর্টে দেয়া চালানপত্রে গ্রেফতারের তারিখ ১২ জুন এবং আদালতে প্রেরণের তারিখ ১৩ জুন দেখিয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে বাদী হালিমা আক্তার নিজেই স্বীকার করেছে, পুলিশ তাকে ও সাইদুরকে ১০ জুন আটক করেছে। একজন আসামীকে মামলায় গ্রেফতার করতে হলে গ্রেফতারের আগেই মামলা রুজু করতে হয় এবং গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হয়। কিন্তু ওসি আলতাফ আমার ভাইকে আটক করে ৭২ ঘন্টারও বেশী সময় তাকে নির্যাতন করেন এবং চারদিনের মাথায় ১৩ জুন তাকে কোর্টে চালান দেন। আবারো নির্যাতন চালানোর জন্য ওসির নির্দেশে আমার ভাইয়ের তিনদিনের রিমান্ডও চেয়েছে পুলিশ।’

‘বেআইনীভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের’ ঘটনাটি ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ায় ওসি আলতাফ ‘ক্ষুব্ধ হয়ে’ সাইদুরকে রিমান্ডে নিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেলার ‘হুমকি দিচ্ছেন’ বলেও লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন লুৎফুর রহমান।

ওসি আলতাফ হোসেনের বিভিন্ন কার্যকলাপে উপজেলার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করে লুৎফুর রহমান বলেন, ‘ওসি আলতাফ হোসেনের নিপীড়নমূলক অপকর্মের বিচার চেয়ে ১৪ জুন সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা ওসি আলতাফ হোসেনের অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার চাই। অবিলম্বে আমার ভাইয়ের জামিন ও মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোম্পানীগঞ্জের নিরীহ জনসাধরণকে ‘অমানুষিক নির্যাতন ও আইনী নিপীড়ন’ থেকে রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমানের চাচা নুরুল হোসাইন, ফুফা বিলাল আহমদ, চাচাতো ভাই এখলাছুর রহমান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি সফিক মিয়া, নুর ইসলাম ও সফাত উল্লাহ প্রমুখ।

Open