চিকুনগুনিয়া -প্রতিরোধ ই সর্বত্তোম পন্থা…।

বিশেষ প্রতিবেদন:

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসবাহিত রোগ। ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস যে এডিস মশা বহন করে, সেই একই মশাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরও বাহক। তবে এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি নেই। ঝুঁকি থাকলে ভোগান্তিও বেড়ে যেত কয়েকগুণ।

রোগের ইতিহাস: এ রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গেলে দেখা যায় ১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়াতে এই ভাইরাস জ্বর দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালের দিকে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর দেখা মেলে। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে হঠাৎ করেই এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর মে -জুন মাসে এসে তা মহামারি আকার ধারণ করেছে।

যেভাবে ছড়ায়: বাসার আশেপাশে ফেলে রাখা মাটির পাত্র, কলসি, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোসা ইত্যাদি যে সব স্থানে পানি জমতে পারে, সেখানে এডিস মশা প্রজনন করে।

রোগের লক্ষণ: চিকনগুনিয়ার বড় লক্ষণ অস্থি সন্ধিতে তীব্র ব্যথা। এছাড়া মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। জ্বর চলে যাওয়ার পরও এ শারীরিক দুর্বলতা ও অস্থি সন্ধিতে ব্যথা থাকতে পারে। স্বাভাবিকভাবে এই ব্যথা ৫-৭ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। অনেক সময় তা ২১ দিন থেকে ৩ মাস বা তারও বেশি সময় থাকে।

চিকিৎসা: এ জ্বরে প্রচুর পানি, সরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। রোগীকে পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেয়া ও জলপট্টি দেয়াসহ অন্যান্য সেবা দিতে হবে। আর জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া অন্য ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

রোগীকে আবার যেন মশা না কামড়ায় এজন্য তাকে মশারীর ভেতরে রাখাই ভালো। কারণ আক্রান্ত রোগীকে মশায় কামড় দিয়ে কোন সুস্থ লোককে সেই মশা কামড়ালে ঐ ব্যক্তিও এই রোগে আক্রান্ত হবেন। এছাড়া চিকুনগুনিয়া জ্বরের কোন প্রতিষেধক নেই, কোন ভ্যাক্সিন বা টিকাও নেই। তাই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হল এডিস মশা প্রতিরোধ।

আমাদের করণীয়: যারা চিকুনগু‌নিয়ায় আক্রান্ত হননি তাদের অবশ্যই ঘুমানোর আগে মশারী টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে। আর যারা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ফলমূল ও পানি জাতীয় খাবার বেশী খা‌বেন।

Open