রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা

আব্দুর রহমান সোহেল, রাজনগর ::
গত তিন দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার উজানের বিভিন্ন নদী খাল খনন না থাকায় দ্রুত পানি নামছেনা। ফলে তলিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। ইতোমধ্যে ভারী বর্ষণ ও ঢলের পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে উপজেলার মনু ও কুশিয়ারা নদীর তীরে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘুর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে গত তিনদিন ধরে রাজনগর উপজেলায় প্রবল র্বষণ হচ্ছে। উজান থেকে নামছে পাহাড়ি ঢল এতে তলিয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউ৬নিয়নের বেশকিছু গ্রাম। এছাড়াও মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের ঝুকিতে রয়েছে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর, দস্তিদারের চক, প্রেমনগর, খাসপ্রেমনগর, চাটিকোনাগাঁও, কালাইকোনা, টুপিরমহলসহ বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর।
বিশেষ করে গত শুক্রবার ভোরে এটানা প্রবল বর্ষণে উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ, রক্তা, মুটুকপুর, চাঁদভাগ, বড়দল, মনতলা, লালাপুর, কালাইগুল, নিজগাঁও, পানিশাইল, হলদিগুল, ভোলানগরসহ উপজেলার ১৫টিরও বেশি গ্রাম ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো উপজেলার চেয়ারম্যান আছকির খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান ছালিক পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন ওই এলাকার কয়েকটি ছড়া খনন না করায় ঢলের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ওই সব এলাকা।
উত্তরভাগ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ বলেন, কালুমুহা ছড়ার কারণে আমাদের এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি কালুমুহা ছড়াটি কনন করার ব্যবস্থা করার জন্য।
এছাড়াও কামারচাক ইউনিয়নে মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫টি স্থানেরও বেশি এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার যাগাযোগ করার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। এনিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ভোলানগর গ্রামের ফারুক মিয়া জানান, ‘আমার বাড়ির বেশির ভাগ নদীগর্ভে চলে গেছে কিন্তু বহুবার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধ মেরামতের মাধ্যমে আমার শেষ আশ্রয় টুকু রক্ষার জন্য আবেদন করেছি। তারা কয়েকবার এ ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্থ করলেও এরপর আর কোন খবর করেন না।
কামারচাক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হক সেলিম বলেন, মনু তীরবর্তী ১৫টি গ্রামের সহ¯্রাধিক মানুষ ভাঙ্গনের আশংকায় দিনা কাটাচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। এলাকার পক্ষে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে আমি জোর দাবী জানাই।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, আমি বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লেকাজন এসে ভাঙন এলাকা দেখাবে। উত্তরভাগ এলাকার কালামুহা ছড়া খননের ব্যবস্থা করছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open