মৌলভীবাজারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যাবস্থাপনা বিরুদ্ধে মানববন্ধন


মৌলভীবাজরে ২৫০ শয্যাবিশিস্ট হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যাবস্থাপনা ও ঘুষ দুর্ণীতির প্রতিবাদে শহরের চৌমোহনা চত্তরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে দূর্ণীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখা। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল দশটায় এ মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়।
দূর্ণীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক চিনু রঞ্জন তালুকদার এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক শ. ই. সরকার জবলূ, সহ-সভাপতি সাংবাদিক মতিউর রহমান, সাধারন সম্পাদক জিতু তালুকদার, সহ- সম্পাদক সাংবাদিক মশাহিদ আহমদ, সমাজ সেবক তজম্মুল হোসেন চৌধুরী, ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল কাইযুম, সাইদুল ইসলাম, আব্দুল বাছিত খাঁন, আব্দুল মুকিদ ইমরাজ, হোমায়ুন রহমান বাপ্পি, দূর্ণীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ যুব ফোরাম সভাপতি ময়নুল ইসলাম রবিন, সাধারন সম্পাদক এম.এ সামাদ, নয়ন দেব, ওমর ফারুক নাঈম, তানভীর আহমদ, ইকবাল হোসেন পাবেল, ছাত্র ফোরোমের সভাপতি সাকের আহমদ, সাধারন সম্পাদক ইউসুফ আহমদ জুয়েল, রুবিনা আক্তার, ফাতেমা বেগম পপি, নৌমিতা রাণী বৈদ্য, নাজমিন আক্তার, আলীম আল-মুনিম, মেরাজ হোসেন চৌধুরী, ফয়েজ আলী, রাসেল চৌধুরী, প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- মৌলভীবাজার জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ‘২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি’ দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ-দূর্ণীতি ইত্যাদি কারণে নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ও দূর্গন্ধময় পরিবেশ এ হাসপাতালটিকে গিলে খাচ্ছে। হাসপাতাল ভবনের চতুঃপ্রাঙ্গন ও ড্রেন, বিশেষকরে পিছনাঙ্গনে অবস্থিত মর্গ বা লাশকাটা ঘর আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত হয়ে আছে। হাসপাতাল ভবনের অভ্যন্তরে রোগী সাধারণের ব্যবহার্য্য বাথরুমগুলো হয়ে আছে ময়লা-আবর্জনার এক একটি মিনি ভাগাড়। টয়লেটগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়- যা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। তার উপর আবার, ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি টয়লেট। হাসপাতালের কতিপয় অসাধু ক্লিনার বা পরিচ্ছন্ন কর্মী তাদের সুবিধার্থে এগুলোকে ব্যবহারের অনুপযোগী বানিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে বন্ধ থাকা এসব টয়লেটগুলোও হয়ে আছে ময়লা-আবর্জনার এক একটি মিনি ভাগাড়। এছাড়া, মেঝে, সিড়ি ইত্যাদি প্রায় সর্বত্রই বিরাজ করছে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ও প্রায় অসহনীয় দূর্গন্ধময় পরিবেশ। কাগজে কলমে হাসপাতালটিতে ৫০ জন ক্লিনার বা পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও, বাস্তবে তাদের কয়েকজন ছাড়া বাকীরা কেউ কেউ দিনের যেকোন একসময় আবার কেউ কেউ সপ্তাহে ২/১ দিন হাসপাতালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে চলে যায়। যে কয়জন হাসপাতালে উপস্থিত থাকে তারা তাদের মর্জিমাফিক দিনে ১ বার বা ২ দিনে একবার রোগী ওয়ার্ডের মেঝে ঝাড়– দিয়ে নামকাওয়াস্তে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শেষ করে এবং বাকী সময় গল্পগুজব, আড্ডা আর দালালীর ধান্ধায় ব্যস্ত থাকে। সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রতিবছর ৩/৪ বার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু, হাসপাতালের অসাধু লোকজন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটা ও হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে, কাগজে কলমে কেনাকাটা ও কাজ দেখিয়ে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এসব অর্থ আতœসাৎ করছেন। অভিযোগ রয়েছে- হাসপাতালটিতে দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে রোগী সাধারণের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত কেবিনগুলোর বেশ কয়েকটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে বন্ধ রয়েছে। কতিপয় অসাধু পরিচ্ছন্ন কর্মী তাদের সুবিধার্থে বাথরুম-টয়লেটের অনুরুপভাবে কেবিনগুলোর কোন কোনটির পানি সরবরাহ লাইন অকেজো করে, কোন কোনটির বিদ্যুৎ সংযোগ অকেজো করে, কোন কোনটির বৈদ্যুতিক ফিটিংস অকেজো করে ব্যবহার অনুপযোগী বানিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। তার উপর আবার, ব্যবহার উপযোগী কেবিনগুলোর একাধিক কেবিনে হাসপাতালের কয়েকজন ষ্টাফ বসবাস করছে। হাসপাতালের অসাধু লোকজনের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের কারণে এভাবেই সরকার বিপুল পরিমান অর্থ আয় থেকে বঞ্চিত করছে। হাসপাতালে ডায়ালাইসিস বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সুমন দেব ও ক্লিনার রাকিবের ঘুষ আদায়ের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে। ডায়ালাইসিস সেবা নিতে আসা রাজনগর উপজেলার কাটাজুরি গ্রামের আব্দুল হাই এর কাছ থেকে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সুমন দেব ও ক্লিনার রাকিবের ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার বিষয়টি পত্র-পত্রিকায়ও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু, আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হাসপাতালের ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী শহরের বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ফার্মেসী ও এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সাথে জড়িত। হাসপাতালটিতে কর্মরত ডাক্তারদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে আসেননা। মৌলভীবাজার ম্যাটস্-এ প্রশিক্ষণার্থী মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টদেরকে বহিঃবিভাগের রোগী দেখার দায়িত্ব দিয়ে ওইসব ডাক্তাররা নিশ্চিন্তে হাসপাতালের বাইরে সময় কাটান। অধিকাংশ কর্মদিবসেই তারা সকাল ১১টার দিকে এসে আবাসিক রোগী দেখা শুরু করেন এবং দুপুর ১টা বাজতে না বাজতেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। হাসপাতালের সবকিছু দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকলেও, তিনি নিজেই অধিকাংশ কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকেন। হাসপাতালের কোথায় কে কি করছে না করছে তিনি তা দেখভালের কোন প্রয়োজন মনে করেননা। ডিউটি ডাক্তারদের অনুরুপ তিনিও তার মর্জিমাফিক হাসপাতালে এসে হাজিরা খাতা, বিল ভাউচার, বেতন বিল ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ফাইলে স্বাক্ষর দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। এককথায়, হাসপাতালটির প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতা। সরকার দেশের জনগণের দ্বার গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে নিরলসভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের দ্বার গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। আর, প্রজাতন্ত্রের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সরকারের এ মহতি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাবে ? সরকার জনগণের টাকায় বেতন-ভাতা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে লালন-পালণ করবে, আর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা-স্বেচ্ছাচার করবে ? জনগণকে সেবা দেয়ার চাকরীতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়ে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে, সেই জনগণকেই দেবে ভোগান্তি-করবে হয়রানী ? এ অবস্থা আর মেনে নেয়া যায়না। তাই, দূর্ণীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম, মৌলভীবাজার জেলা শাখা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সকল প্রকার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, ঘুষ-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিকারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালণ করেছে ।

Sharing is caring!

Loading...
Open