মৌলভীবাজারে বিজয় মেলায় ব্যবসায়ীকে কোপানোর ৮ম দিনে মামলা নিয়েছে থানা

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে শহরের কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত গত ১০ ডিসেম্বর থেকে চলমান মাসব্যাপী বিজয় মেলায় সন্ত্রাসীরা মুমিন কফি হাউসের মালিক মুমিন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ৮ম দিনে অবশেষে মামলাটি রেকর্ড করেছে মৌলভীবাজার মডেল থানা। গত ৯ জানুয়ারী রাত্র ৮টায় সংঘটিত এ ঘটনার পর থেকে আজ ৯ম দিন এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত গুরুতর আহত মুমিন মিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে- মোটরবাইকে বসাকে কেন্দ্র করে শাহান নামীয় এক ব্যক্তির সাথে মুমিন কফি হাউসের মালিক মুমিন মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহান ও তার সঙ্গীয় ১০/১২ জন লোক ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুমিন মিয়াকে কুপিয়ে ধরাশায়ি করে পালিয়ে যায়। পরে আশংকাজনক অবস্থায় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের ডাক্তার তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরদিন ১০ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টায় বিজয় মেলার পরিচালক সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ আনসার আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান- গতকাল রাতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মুমিন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। আমি ঘটনার সাথে সাথে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি। ওইদিনই দুপুর ১টায় মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি অকিল উদ্দিন আহম্মদ জানান- বিজয় মেলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনও থানাকে জানানো হয়নি। তবে, আহত ব্যক্তির মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও কোন মামলা হয়নি। এর পরপরই আহতের স্বজনরা জানান- আমরা মামলা দায়েরের জন্য থানায় এসে অপেক্ষা করছি। এখনও মামলা নেয়া হয়নি। সর্বশেষ গতকাল ১৬ জানুয়ারী বিকেল পর্যন্তও মামলা রেকর্ড হয়নি জেনে এ প্রতিবেদক ৭ দিনেও মামলা রেকর্ড করছেননা কেন- জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ব্যস্থতা দেখিয়ে বলেন, আমি কি এ ঘটনাই নিয়ে থাকব নাকি, আমার আরও অনেক কাজ আছে। একজন নির্যাতিত লোক আইনী প্রতিকার পাবার জন্য এক সপ্তাহ যাবৎ মডেল থানায় আসাযাওয়া করছে। অথচ আপনী বলছেন আপনার আরও কাজ আছে, জনগনের নিরাপত্তা দেওয়াটাতো আপনার কর্তব্য জানালে বলেন আপনী আমাকে চার্জ করছেন। ‘মামলা নেয়া হবে’ জানিয়ে ওসি তাৎক্ষণিক একজন এসআইকে ঘটনাটির খোঁজখবর নেয়ার দায়িত্ব দেন। ওই এসআই তাৎক্ষণিক মামলার বাদীকে সাথে নিয়ে বিজয় মেলায় গিয়ে মেলা আয়োজকদেরকে ‘আজকের মধ্যেই বিষয়টি আপোষ-মিমাংসা’ করার কথা বলে চলে যান। এ খবর জেনে ওই এ প্রতিবেদক এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সাথে কথা বললে তিনি জানান- এক সপ্তাহ আগে সংঘটিত এ ঘটনার ব্যাপারে আমি কিচ’ই জানিনা। জানিই-না। ওসি সাহেবের কাছে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলা না নেয়ার তো কোন কারণ থাকতে পারেনা। আচ্ছা আমি বিষয়টা দেখছি। অপরদিকে, সংঘটিত ঘটনায় মামলা রেকর্ডের ব্যাপারে সিনিয়র একজন সাংবাদিকসহ এ প্রতিনিধির হস্তক্ষেপের বিষয় জানতে পেরে বিজয় মেলা আয়োজকদের পক্ষে একটি মহল বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার জন্য জোর চেষ্টা শুরু করেছে। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় মামলার নম্বর জানতে চাইলে ওসি জানান- আমি এখন বাইরে আছি। সিরিয়াল নম্বরটা বলতে পারবনা। এরপর ডিউটি অফিসার জানান- মামলা এখনও রেকর্ড হয়নি। তবে হচ্ছে, অর্থাৎ কিছুক্ষণের মধ্যে হয়ে যাবে। আধাঘন্টা পরে ফোন দিলে মামলার নম্বর পেয়ে যাবেন। এরপর আজ ১৭ জানুয়ারী থানার মুন্সী জানান- গতকাল রাতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, নং- ২৫, জিআর- ২৫, তাং- ১৬/০১/২০১৭ইং। পরে মামলার এফআইআর কপি সংগ্রহ করে দেখা যায়, থানার মুন্সী মামলার সঠিক নম্বর দেননি। এফআইআর কপিতে মামলার নং- ২৪, জিআর- ২৪। এভাবেই মামলা দায়ের করতে আসা লোকজনের হয়রানীর ঘটনা মৌলভীবাজার মডেল থানার নিত্যদিনের চিত্র।

Open