ফুলতলীতে লাখো মানুষের ঢল,রাস্তা-ঘাট লোকে লোকারণ্য

উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর বাড়ি ফুলতলীতে গতকাল ১৫ জানুয়ারি (রবিবার) নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর মাজার, মাহফিলের পেন্ডাল, বাজার, রাস্তা-ঘাট সবই ছিল লোকে লোকারণ্য। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুলতলী অভিমুখী জনতার ¯্রােত ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে ১০টায় এতীমখানার হাজারো এতীমকে নিয়ে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর অুষ্ঠিত হয় খতমে কুরআন ও দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম। যুহরের পূর্বেই লোকে লোকারণ্য হয় বালাই হাওর।

 

 

 

 

 

বাদ যুহর খতমে খাজেগান ও দুআ শেষে মুরিদীন-মুহিব্বীনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-তরবিয়ত ও হৃদয়গ্রাহী বয়ান পেশ করেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের মাতা-পিতা আমাদেরকে মানুষের মতো মানুষ হবার কথা বলেছেন কিন্তু আমরা মানুষ হতে পারিনি। আমাদের প্রকৃত মানুষ হবার চেষ্টা করতে হবে। মেহমানকে সম্মান ও প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে। সবসময় ভালো কথা বলতে হবে। কেননা ভালো কথা হলো সদকাবিশেষ। তিনি বলেন, খিলওয়াত তথা নির্জনবাস অত্যন্ত জরুরী বিষয়। আমাদের পীর ও মুরশিদ হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) বহুবার চিল্লা করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মধ্যে অনেকে এখনও তরীকার চিল্লা করে থাকেন। যারা তরীকার শুগল-আশগাল ও যিকর-আযকারে নিবিষ্ট হন তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহর পথে অগ্রসর হলে শয়তান ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করে। তিনি হযরত আবদুল কাদির জিলানী (র.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, শয়তান তাঁকেও ধোঁকা দেয়ার অপচেষ্টা করেছিল। এ ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে হবে। কোনো কোনো ওলামা-বুযুর্গ তাবীয দিয়ে থাকেন। পূর্বসূরী বুযুর্গানও তাবীয দিতেন। তবে এটাকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের সকল কাজ যেন দ্বীনের অনুসরণে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়। হযরত আল্লামা ফুলতলী (র.) সারাজীবন আল্লাহর ওয়াস্তে ব্যয় করে গেছেন। সহীহ কিরাত শিক্ষাদানে তাঁর খেদমত অতুলনীয়। তিনি নিজ হাতে দারুল কিরাতের ছাত্রদের জন্য রান্না পর্যন্ত করেছেন। রাঁধতে গিয়ে একটি জ্বলন্ত অঙ্গারে তাঁর হাতও জ্বলে গিয়েছিল। তিনি এ দাগ নিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর অনুসরণে আমাদেরও এক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে হবে। সহীহ কিরাত শেখার ও শেখানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করেন, টুপি পাঞ্জাবীর ধরন নিয়ে আলোচনা করেন। এসব না করে হাদীসের মূল মর্ম উপলব্দি করুন, উলামায়ে হিন্দের টুপি সম্পর্কে জানুন। সমালোচনায় প্রবৃত্ত না হয়ে বরং দ্বীনের কাজ করুন, কুরআন বিশুদ্ধ করুন। তিনি ঈসালে সাওয়াবের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে গরীব অসহায় মানুষকে খাদ্য দান, গৃহ নির্মাণ, বৃক্ষরোপন ইত্যাদি নেক কর্ম সম্পাদন করুন। মানুষকে ভালোবাসুন, আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন।
বাংলাদেশ আন্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী’র যৌথ পরিচালনায় মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মক্কা মুকাররামার মসজিদুল খায়র-এর সম্মানিত খতীব সায়্যিদ আল-হাবীব মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আইদারুছ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত শায়খুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান, উজানডিহির পীর ছাহেব মাওলানা সায়্যিদ মোস্তাক আহমদ আল মাদানী, আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী ছাহেবজাদায়ে ফুলতলী, ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরের প্রখ্যাত বুযুর্গ খতীবে আ’যম আল্লামা ওজীহ উদ্দীন রামপুরী (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি ড. শাআইরুল্লাহ খান রামপুরী, রামপুর নবাবী মসজিদের ইমাম ও খতীব, মাদরাসায়ে জামিউল উলূম ফুরকানিয়ার উস্তায হযরত মাওলানা ই’তিসামুল্লাহ খান রামপুরী, মাওলানা মাকারিমুল্লাহ খান রামপুরী, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মুফতী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, সোবহানীঘাট কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব মাওলানা এ.কে.এম মনোওর আলী, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কাফীলুদ্দীন ছালেহী, মুফতী মাওলানা আবূ নছর জিহাদী, জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জ.উ.ম আব্দুল মুনঈম, সৎপুর কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছালিক আহমদ, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিছ মাওলানা বদরুজ্জামান রিয়াদ, তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি ফখরুল ইসলাম।
মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমরোটের পীর ছাহেব হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ সেলিম উদ্দিন, সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ এর চেয়ারম্যান ডা. মোঃ আফজাল মিয়া, মাওলানা আব্দুশ শাকুর চৌধুরী ফুলতলী, জালালিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শুয়াইবুর রহমান, ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারী হাফিয মাওলানা ফখরুদ্দীন চৌধুরী, সৎপুর কামিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম সিদ্দিকী, ইছামতি কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাশুক আহমদ, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রহীম, রাখালগন্জ সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হবিবুর রহমান, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, ইকড়ছই সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ছমির উদ্দীন, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ছরওয়ারে জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, সৎপুর কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবূ জাফর মুহাম্মদ নুমান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল ইসলাম, মাথিউউরা সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল আলিম, বুরাইয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, আনজুমানে আল ইসলাহ ইউএসএ’র জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা আবুল কাশেম মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমান তালুকদার, সিলসিলা ইসলামিক সোসাইটি, কভেন্ট্রি, ইউকে’র পরিচালক হাফিয সাব্বির আহমদ, আলহাজ্জ জসীম উদ্দিন, দারুল কিরাত লতিফিয়া সমিতি, উত্তর পূর্বাঞ্চল, আসাম’র সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার উদ্দিন, যমযম ট্রাভেলস’র স্বত্তাধিকারী মাহবুবুর রহমান, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার কভেন্ট্রি’র প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল হাসান, ঢাকা জেলা লতিফিয়া কারী সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবু সাদেক মুহাঃ ইকবাল খন্দকার, মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমদ, ইউকে আল ইসলাহ নেতা আলহাজ্ব ইসমাইল মিয়া, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মকন মিয়া, প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবূ ছালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা নজমুল হুদা খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ হাসান চৌধুরী, স্কুল অব এক্সেলেন্স-এর ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী, মাওলানা মুজিবুর রহমান ভাদেশ্বরী, তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর হোসেন, মাওলানা আজির উদ্দিন পাশা, হাফিয নজীর আহমদ হেলাল, মাওলানা বেলাল আহমদ, ভাদেশ্বর আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শুয়াইবুর রহমান, এলাহাবাদ আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির হুসাইন, মাদারবাজার হাফিজিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ শহীদ আহমদ বোগদাদী, ফেঞ্চুগঞ্জ মুহাম্মদিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আতহার, বিশ্বনাথ আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুমান আহমদ, মাওলানা আব্দুস সোবহান জিহাদী, মাওলানা আব্দুল বারী জিহাদী, আলহাজ্ব তোরণ মিয়া, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির লেকচারার নোমান আহমদ, ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হাফিয আশিকুর রহমান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিয আলাউর রহমান টিপু, কুলাউড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ইমাদ উদ্দিন নাসিরী, আল ইসলাহ নেতা মাওলানা আবু তাহির খালিদ, মাওলানা ফরিদ আহমদ হবিগঞ্জী, আলহাজ শাহজাহান মিয়া, মাওলানা আলী আসগর খান, তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুর রহমান প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open