ছাতকের পালপুরে নিরীহ পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ


ছাতকের পালপুরে বসতবাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তীতে নানা অপপ্রচারের বিচার এবং সিলেট কতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয় যে,
ছাতকের পালপুরে সম্প্রতি গ্রামের কিছু সংঘবদ্ধ বখাটে, সন্ত্রাসী কর্তৃক বসতবাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলায় একটি শিক্ষিত পেশাজীবী পরিবারের নারী সদস্য সহ চারজন স্থায়ী পঙ্গুত্বের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শুধু তাই নয় তারা নানা অনৈতিক ও অশ্লীল অপপ্রচারেও লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে মারাত্মক হয়রানি করে যাচ্ছে একটি শিক্ষিত ও নিরীহ পরিবারকে। এসব হিংসাত্মক পরিস্থিতির শিকার হয়ে উক্ত পরিবারের দুই আইনজীবী, একজন স্থপতি, আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত এক ছাত্র এবং একজন স্কুলশিক্ষক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার কোর্ট পয়েন্টে সিলেট আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিশাল মানব বন্ধনের কর্মসূচির পাশাপাশি গতকাল স্থানীয় এক হোটেলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট বারের এডভোকেট তাহমিনা তাফাসসুম এমন অভিযোগ করেন
লিখিত বক্তব্যে এডভোকেট তাহমিনা তাফাসসুম জানান, ছাতকের পালপুর গ্রামে একটা কুচক্রি মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের শিক্ষা ও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে নানাভাবে হেনেস্থা করার পায়তারা করে আসছে। একটা পেশাজীবী পরিবার হিসাবে দেশে বিদেশে ব্যস্ত জীবন যাপন করায় এই মহল কখনো তাদের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্যে সরাসরি আক্রমণ, কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি আবার কখনো নানা রকম কুরুচিপূর্ণ পোস্টার ছাপিয়ে মানহানি ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।গত সপ্তাহখানেক আগে এইসব অশ্লীল- কুরুচিপূর্ণ পোস্টার ছাতক- সুনামগঞ্জ এবং সিলেট শহরের দেয়ালে দেয়ালে এমনকি সিলেট কোর্টের দেয়ালেও টাঙানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নিজে দেশে আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখতে মহান আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি আমার পরিবার পালপুর তালুকদার বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেদের পেশায় দেশ বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। আমার বড় ভাই টি এম আহমেদ কায়সার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে এখন ওখানেই স্থানীয় সরকার প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং একজন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে দেশে বিদেশে পরিচিত। আমার চাচা সিলেট রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমার মেজভাই আহমেদ আহসান একজন শিক্ষক, ছোটভাই আহমেদ আনহার একজন তরুণ স্থপতি, ডঃ টি এম ইমরান সিলেটে একজন তরুণ চিকিৎসক, ভাইপো মাহি তালুকদার সিলেট বারের জনপ্রিয় আইনজীবী, আমার বাবা পালপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পালপুর আলীম মাদ্রাসার ভুমিদাতা এবং চাচা চাচীদের প্রায় সকলেই জনপ্রিয় শিক্ষক হিসাবে এলাকার মানুষের কাছে জ্ঞানের আলো প্রচার করে আসছেন।গ্রামের বখাটেরা ঈর্ষান্বিত হয়ে নানাভাবে গ্রামের বাড়িতে থাকা সম্পত্তি আত্মসাতের জন্যে গায়ে পড়ে দাঙ্গা হাঙামা ও নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে আসছে।কিছুদিন পূর্বে তাঁদের গ্রাম দিয়ে যাওয়া জালালপুর- লামারসুলগঞ্জ সড়কের পাশের অনেকগুলো বিশাল গাছ স্থানীয় ভুমিখেকো আকিক মোল্লা- ফখর- আব্দুল জলিল মানিক- আবুল গংদের নেতৃত্বে কেটে ফেলার সময় আমার বাবা এলাকার কিছু সচেতন লোকজনদের নিয়ে সরকারী গাছ কাটতে মানা করেন কিন্তু তারা তা অমান্য করে গাছ কেটে প্রকাশ্যে তা বিক্রিও করে দেয়। আমার বাবা তা সড়ক প্রকৌশলীকে অবহিত করলে তিনি তা সরেজমিনে তদন্ত করে আকিক মোল্লা ও দোষীদের বিরুদ্ধে সরকারী সম্পদ নিধন ও চুরির অভিযোগে ছাতক থানায় একটি মামলা করেন, মামলা নং- ২৩/৩১১। এরই জের ধরে চার বছর আগে অসামাজিক কার্যকলাপের জন্যে পঞ্চায়েত থেকে বিতাড়িত আব্দুল জলিল মানিক, সিএনজি চুরির মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামি ফখর, সরকারি গাছকাটা ও বিক্রির মামলার আসামী আকিক মোল্লা ও জলিল মোল্লাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত গ্রামের বিভিন্ন গোষ্ঠী মিলে দুই দফায় ১৯ ও ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আমাদের গ্রামের বাড়িতে থাকা দশ বারোজন চাচা এবং ভাইদের উপর তাদের বসতবাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় (এ নিয়ে ছাতক থানায় আমাদের পরিবারের লোকজনরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং বিচার চেয়ে একাধিক মামলা করেন, ১৯ ও ২৬ ডিসেম্বরে হামলার ঘটনায় মামলা নং যথাক্রেমে ৩০৯/১৬ ও ৩৫৫/ ১৬ এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আরো দুটি জিডি দায়ের করেন, যার নং- ১৩৮/১৬ ও ১২৭১)। এতে আমার এক চাচা তাহিদ তালুকদার ও চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর তালুকদার, তোফায়েল আহমেদ, চাচি শামসিয়া তালুকদার এখনো পঙ্গুত্বের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।অথচ পালপুর গ্রামের দাঙ্গায় আহত হাসান নামের কেউ একজন, যাকে আমরা চিনিইনা, তাকে সিলেটে হতাহত দেখিয়ে আমিসহ রাজধানী ঢাকায় নিজ পেশায় নিয়োজিত আমার ছোটভাই স্থপতি আহমেদ আনহার , মেজভাই স্কুল শিক্ষক আহমেদ আহসান, ভাইপো এডভোকেট মাহি তালুকদার, চাচাতো ভাই আইন বিভাগের ছাত্র রাহাত আলম শোভন, ভাইপো রায়হানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। অথচ এইসব পিশাচ মানুষেরা আমাদের প্রায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া রোগিদের পর্যন্ত হাসপাতালে আসতে ব্যারকেড সৃষ্টি করে, এমনকি হাসপাতালে এসে আক্রমণ করার জন্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ মাইক্রোবাস বোঝাই করে ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। পুলিশ গাড়ি ও অস্ত্রশস্ত্র সহ দুজনকে গ্রেফতার করে তা স্থানীয় মিডিয়াতে স্বীকার করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এর কারণ খতিয়ে দেখছে। আইনের শাসনকে সমুন্নত করতে ও মানুষের জন্যে আইনী লড়াই করার প্রতিজ্ঞা করে আইনি পেশায় জড়িত হয়েছি, অথচ তারা সিলেটে এসে আমাদের দুজনকেও এই মিথ্যা মামলায় অন্তর্ভুক্ত রাখতে দ্বিধা করেনি। এতদসত্বেও এখন নানা রকম কুরুচিপুর্ণ পোস্টার ছাপিয়ে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সব রকম অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এডভোকেট তাহমিনা তাফাসসুম বলেন, আমরা এই মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার চাই, অশ্লীয় পোস্টার ও প্রোপাগান্ডার নিরসন ও গ্রামের সহায় সম্পত্তি সহ জীবনের নিরাপত্তা চাই এবং এইসব বখাটে, চোর ডাকাত, দুষ্কৃতিকারিদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ প্রশাসনিক পদক্ষেপ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমুজ মিয়া তালুকদার, সিলেট রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছাদ মিয়া, এডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমি, এডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজন, এডভোকেট হোসাইন আহমদ শিপন, এডভোকেট জয়নুল হোসেন রুবেল, এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, এডভোকেট গাজী আজমল, এডভোকেট রবিউল ইসলাম, এডভোকেট শাকি শাহ ফরিদী, এডভোকেট রব নেওয়াজ রানা, ডাঃ ইমরান আহমেদ, এস এম তাহফীম প্রমুখ।

Open