জামালগঞ্জে সুরমায় সেতু না থাকায় লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

1জামালগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে একটি মাত্র সেতুর অভাবে পাঁচটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের খেয়া পারাপারে যুগযুগ ধরে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। সেতু না থাকায় প্রায় আধা ঘন্টা বসে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হতে গিয়ে প্রায়শই ঘটে নৌদুর্ঘটনা। এমনিকি হেমন্ত মাসে পানি নিচের দিকে নেমে গেলে ভাঙাচুরা খেয়াঘাট দিয়ে উঠানামা করতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকে। এর পরেও থেমে নেই মানুষের চলাচল। জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত এলাকার হাজারো মানুষ ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ খেয়াতেই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ –সাচনার মাঝামাঝি বয়ে গেছে সুরমা নদী। উত্তরে নদীবন্দর খ্যাত সাচনা বাজার ও দক্ষিণে জামালগঞ্জ উপজেলা সদর উত্তরে দু’টি ইউনিয়ন সাচনা ও বেহেলী। দক্ষিণে ৩টি ইউনিয়নের ফেনারবাক, ভীমখালী ও সদর ইউনিয়নের কিছু অংশ থাকায় উভয় পারের মানুষকে ব্যাংক, স্কুল কলেজ, অফিসিয়াল ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কেনাকাটা করা জন্য দু’পারে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সুরমা নদী পারাপারের জন্য জামালগঞ্জ মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের অভিমুখে থাকা খেয়াঘাটে ছোট দু’টি নৌকা রয়েছে। আর এ নৌকাটি হচ্ছে এ উপজেলাবাসীর একমাত্র পারাপারের ভরসা। সুরমা চলতি নদী অনেক গভীর, তাই সারা বছরই এই খেয়া দিয়ে জামালগঞ্জ সদর, বেহেলী, সাচনাবাজার, ফেনারবাক, ভীমখালীসহ পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জামালগঞ্জ ও সাচনা বাজারে যাতায়াত করে আসছেন। যাতায়াতকারীদের মধ্যে চাকুরিজীবীসহ ও উপজেলা পরিষদ, থানা ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ প্রায় ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর এই খেয়া নৌকা দিয়ে পার হতে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট। এখানে সেতু হলে মাত্র এক মিনিটেই রাস্তা পারাপার হওয়া যেত। শুধু এখানেই জনসাধারনের ভোগান্তির শেষ নয়; ছোট খেয়ানৌকার ১০-১৫জন যাত্রী ধারণের ক্ষমতা থাকলেও ৩০-৪০জন যাত্রী নৌকায় উঠে পড়েন। তখন নৌকাটি বিপদজ্জনক অবস্থায় চলাচল করে। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নদীর পানির স্রোতে ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নদীতে খেয়ানৌকা থাকে। অনেক সময় রাত ৯টার পরে উপজেলা বা সাচনা বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফিরতে গিয়ে খেয়া নৌকা না পেলে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। এ অঞ্চলের লোকজনকে রাত ৯ টার ভিতরে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাচল করতে হয়। তা না হলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এ অঞ্চলে যাদের নিজস্ব নৌকা নেই, তারা মহাবিপাকে রয়েছেন। সাচনাবাজার এলাকা থেকে রাতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কিংবা মারাত্মক রোগী নিয়ে সদরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। অথবা উপজেলা সদরে থানা থেকে সাচনা বাজারে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের টহলদলকে নদী পার হয়ে রাত নয়টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত টহল শেষে করে ফিরতে হয় থানায়। উপজেলার উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বাসন্দা দর্জি টেইলার জসিম উদ্দিন, চাকুরীজীবী লম্বাবাক গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন, কালীপুর গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, রাশিদ আলী,জাহাঙ্গীরসহ এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা অতন্ত নাজুক ও করুণ। অবস্থার কেউ খোঁজখবর রাখেন না। জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম ও সুর্যমণি বলেন, অনেকটা ঝুঁকি আর ভয়ের মধ্যে দিয়ে খেয়ানৌকায় পারাপার হতে হয়। অনেক সময় বেশি যাত্রী থাকলে প্রায়ই ঘটে নৌকা ডুবে গিয়ে আমাদেও বই খাতা পানিতে ভিজে যায়।
এ ব্যপারে সাচনা বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম জানান, সুরমা সেতুটি ব্যাপারে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, সামনের একনেকের বৈঠকে উঠবে। আর চলতি অর্থ বছরে কাজ শুরু হবে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু এই সরকারের আমলে শুরু হবে। ইতোমধ্যে বুয়েটের সমীক্ষা টিম সমীক্ষা রিপোর্ট কাজ শেষ করেছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের কাছে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে জানান, সুরমা সেতুর এলাকাবাসীর দাবিটি সাথে আমিও চাই এ সেতুটি হোক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ সেতু হবে। এটি বিবেচনা করে আমি জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open