অবশেষে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে কার্যালয়ে ফিরলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩ কর্মকর্তা

1স্টাফ রিপোর্টার :: অবশেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশে কাজে যোগ দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) শীর্ষ তিন কর্মকর্তা। টেন্ডার বাগিয়ে নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন সরকারদলীয় কাউন্সিলর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার ৯ দিনের মাথায় কাজ শুরু করলেন ওই তিন কর্মকর্তা। সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে সিটি কর্পোরেশনের বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়। অর্থমন্ত্রী তালা দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সবাইকে বুধবার থেকে অফিস করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী বলেন, এরপর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে কাজে যোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টেন্ডার বাগিয়ে নিতে না পারায় গত ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ছ ম মনসুরের দফতরে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলররা। তখন থেকে তারা কাজ থেকে বিরত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অন্য কাউন্সিলররা। এরপর বিষয়টি সমাধানে নিজ দলের অনুসারী কাউন্সিলরদের সঙ্গে গত ১৮ অক্টোবর রাতে জেলা পরিষদে এক বৈঠক করেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তাদের সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনার জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে কর্মকর্তাদের। এর আগ পর্যন্ত নিজ প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে থাকতে ওই তিন কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন বৈঠককারী আওয়ামী লীগ নেতারা। উল্লেখ্য, গত বছর আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালে সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন লাল দীঘিপাড় সিটি মার্কেট ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীকালে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে সময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।

উচ্চ আদালতে রিটের শুনানি রায় সিসিকের পক্ষে আসে। কিন্তু সরকারদলীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সমঝোতার মাধ্যমে এক কোটি ৫ লাখ টাকায় এই কাজ নিতে চান। এ ঘটনা নিয়ে মূলত সিসিকের ওই তিন কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open