গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের নানা দুর্নীতি-উৎকোচ ছাড়া ফাইল নড়ে না

1গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:গোলাপের সৌরভে ভরপুর গোলাপগঞ্জ উপজেলা নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে আরো এক খন্ড যোগ হল। তা হল পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতি। গোলাপগঞ্জের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সমস্যার অক্টোপাসে বন্দী। সেবার নামে চলছে দুর্নীতির মহোউৎসব। তাদের দুর্নীতির কারণে উপজেলার জনসাধারণ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারি মাস্টারপ্লানের কাজ,মিটার লাগানো,মিটার বদলানো,বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দেয়া,বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজসহ সকল কাজেই চলছে বিভিন্ন অজুহাতে এসব দুর্নীতি। উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই হচ্ছে না। দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা দালালদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ  হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। কর্মকর্তা কর্মচারীরা মিটার সংযোগসহ বিদ্যুতায়নের কাজে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। এমন অনেক অভিযোগ উপজেলা জুড়ে ঘোরপাক খাচ্ছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১নং বাঘা এখলাছপুরবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও দিয়েছেন। দপ্তরগুলো হচ্ছে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার,সিলেট জেলা প্রশাসক,উপ-পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেট,জিএম সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাপগঞ্জ। অভিযোগে বিদ্যুৎ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া এখলাছপুরবাসী সম্পন্ন হওয়া সরকারি মাস্টার প্লানের কাজটি তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়াসহ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেন। গত মঙ্গলবার সকাল ১২টায় সিলেট থেকে একটি তদন্তদল আসে বাঘার এখলাছপুরে। এসময় তারা ঘটনার সত্যতা পেয়ে স্বাক্ষরকারীদের কাছ থেকে আবারও স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ নিয়ে যায়। তবে তদন্তকারীদল তাদের পরিচয় গোপন রেখে তদন্ত শেষে বিকেল ফিরে যান। দালালদের দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষুব্দ বাঘার এখলাছপুরবাসী। এসব দপ্তরের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ পাওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ্ব কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন বাঘার এখলাছপুর গ্রামকে আলোকিত করতে সরকারের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি সরকারি খরচে ৫’শতাদিক পরিবারে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার উদ্দ্যোগ নেন। বছরখানেক পর বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার কাজও সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। আর এই কাজেরও উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

যা উপজেলার অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়াসহ অন্যান্য কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আর এ কাজে যারা মোটা অংকের টাকা দিয়েছে তারাই আলোর মুখ দেখেছেন। দীর্ঘ ১ বছর আগে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ লোক মারফতে বিদ্যুৎ সংযোগে মিটারপ্রতি ৪২শ টাকা ও প্রতি খুঁটি বাবত নেয় ৪/৫ হাজার টাকা ধার্য করে। আর খুঁটি সরানো কাজে নেয় ২০/৩০ হাজার টাকা। অভিযোগে জানা যায়,এখলাছপুর এলাকার মৃত খাছির আলীর ছেলে আবুল বশর (৭৫) কে সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন ওরফে নেয়াইকে সেক্রেটারী করে নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করিয়ে দেন গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ ১এর পরিচালক আব্দুল আহাদ। এই কমিটির মাধ্যমে এলাকার ২৬৫ জন আবেদনকারীরা তার কাছে ধার্য্যকৃত টাকা জমা করেন। বাকি ২৩৫জনের টাকা অপর কমিটির মাধ্যমে এভাবে টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তর গোলাপনগর গ্রামের মৃত ইছবর আলীর ছেলে আলমাছ মিয়া বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তার কাছে ১লাখ টাকা দাবী করিলে তিনি তাদের দাবীকৃত টাকার মধ্যে ৫০হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন ওরফে নেয়াই চাচার কাছে প্রদান করিলে বিদ্যুৎ পান। পুনরায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের দাবীকৃত বাকি টাকা না পরিশোদ করিলে বিদ্যুৎ বিচ্চিন্ন করে দেয়া হবে। ২নং স্বাক্ষরকারী ফজলু মিয়ার স্ত্রী আফিয়া বেগম অভিযোগে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নেয়াই মিয়া খুঁটি লাগানোর জন্য ৬০ হাজার টাকা দাবী করলে আমি ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও বিদ্যুৎ পাইনি। পরে তারা বলছে ৫০ হাজার টাকা দিতে পারলে বিদ্যুৎ পাবেন।  উত্তর গোলাপনগর গ্রামের কটই মিয়ার ছেলে আরকান ও ফুরকানকে বিদ্যুৎ দিতে কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবী করলে তারা ১০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়। তাদের দাবীকৃত না দেয়ায় তারা বিদ্যুৎ দেয়নি। বিদ্যুতের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে এখালাছপুরে বিদ্যুতায়নের কাজ উদ্বোধন করতে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় তারা দু’ভাই বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন করলে তিনি ঐ বাড়ীতে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার জন্য একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। তাতেও কোন কাজ হয়নি। অন্যান্য স্বাক্ষরকারীরা একি ধরণের কথা বলে অভিযোগে স্বাক্ষর করেন। এদিকে গোলাপগঞ্জ বাজার আহমদ খাঁন রোডের চাইলের ব্যবসায়ী বিলাল আহমদ অভিযোগ করেন,তার দোকানে অতিরিক্ত বিল আসাতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করলে তারা লিখিত আবেদন করতে বলেন। পরে তিনি লিখিত আবেদন করলেও কোন প্রতিকার পাননি। এব্যাপারে তিনি সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ ১-এর প্রধান কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলেন,ডিজিএমের কাছে গেলে ডিজিএম ঠেলে দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ পরিচালকের দিকে। দু’দিন আগে তিনি পল্লী বিদ্যুতের পরিচালক আব্দুল আহাদের কাছে গেলে তিনি মিটার বদলানোর জন্য ৮হাজার টাকা দাবী করেন। পরে তিনি চলে আসেন।  ময়না মিয়া ভেরাইটিজ ষ্টোরের সত্বাধিকারী মৃত ময়না মিয়ার পুত্র হেলাল মিয়া বলেন,মিটার ও সংযোগের জন্য লোক মারফতে ৪হাজার দুই’শত টাকা ও খুঁটির জন্য সাড়ে ৩হাজার টাকা করে দিয়েছি। সবকিছু দিয়ে এখনও বিদ্যুৎ পাইনি। কার কাছে টাকা দিছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই টাকাগুলো উত্তর গোলাপনগর গ্রামের খলিলের ছেলে ফরিদ মিয়ার কাছে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন খুঁটি সরানো কাজে তাদের ২৫/৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এ কাজের ঠিকাদার ছিলেন বালাগঞ্জের আছাব আলী। আলাউদ্দিন ও চেরাগ আলী বলেন, খুঁটি কয়েকহাত সরানোর জন্য  তাদের ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মৃত রাশিদ আলীর পুত্র লুৎফুর রহমান বলেন বাড়তি টাকা না দিতে পারায় ৩০/৩৫ টি ঘরে এখনও বিদ্যুৎ পৌছায়নি। তাদের টাকা তুলার কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন,একই এলাকার তেরা মিয়ার পুত্র আব্দুলাহ,মৃত আর্জাদ আলীর পুত্র উস্তার মিয়া, মৃত আবিদ আলীর পুত্র আজিজুর রহমান, আব্দুল মন্নানের পুত্র খালারছান মিয়া,কবির আলীর পুত্র মনির আলী,মৃত সোনা মিয়ার পুত্র ফখরুল ইসলাম,বুধুর মিয়ার পুত্র দুদু মিয়া।  সূত্র জানায়,এখলাছপুরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার কাজে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করে ৩৪/৩৬ লাখ টাকা। আর এই লুটপাট আর দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন,পল্লী বিদ্যুৎ ১এর পরিচালক আব্দুল আহাদ, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সুজিৎ কুমার বিশ্বাস,কাজের ঠিকাদার বালাগঞ্জের আছাব আলী ও বিদ্যুৎ মেকানিক উত্তর গোলাপনগর গ্রামের খলিলের ছেলে ফরিদ মিয়া। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন বাঘার ্ এখলাছপুরবাসী।

Sharing is caring!

Loading...
Open