লামাকাজীতে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের মামলা অভিযুক্ত ৫৫১, পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত

1বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: লামাকাজীতে ‘দোকানের সামনে সিএনজি অটোরিকশা রাখার জের ধরে’ সোমবার সিলেটের বিশ্বনাথ ও সদর উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই রাতেই বিশ্বনাথ থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্বনাথ থানার এসআই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা ১৭ (তাং ১৯/০৯/১৬ ইং) সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যার শাহজালাল ওরফে নুরুল হুদা’কে প্রধান অভিযুক্ত করে ৫১ জনের নাম উল্লেখ ও আরোও ৪০০/৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনাটি আপোস-মিমাংশায় নিষ্পত্তি করার জন্য মুরব্বীদের সাথে নিয়ে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পর মঙ্গলবার দুপুরে লামাকাজীতে সভা করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলাবাসী। উপজেলার লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউপি সদস্য এনামুল হক এনাম ও ফয়ছল আহমদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ-নুর উদ্দিন, বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল, রামাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর, খাজাঞ্চী ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, লামাকাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রইছ আলী, লামাকাজী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সভাপতি রইছ আলী মাস্টার, সৎপুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ শাহনুর হোসাইন, আবুল খয়ের লালা মিয়া।

মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, উভয় পক্ষে চাপা উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার লামাকাজী এম.এ.খান সেতুর ওপরে ২ ঘন্টাব্যাপী ‘সিলেটের বিশ্বনাথ ও সদর উপজেলাবাসী’র সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে পুলিশ ২০০ রাউন্ড গুলি ও ৩৪ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় একাধিক যানবাহন ভাংচুর করেন বিক্ষোদ্ধ সদর উপজেলাবাসী। ২ ঘন্টাব্যাপী উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে প্রায় ৩ ঘন্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

Sharing is caring!

Loading...
Open