গোয়াইনঘাটে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুরে বিলে ক্ষুব্ধ গ্রাহক : চলছে নানা অনিয়ম

2গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর আওতাধিন গোয়াইনঘাটে  পল্লী বিদ্যুতের এর ভুতুরে বিলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পল্লী বিদুৎ অফিসে নানা অনিয়ম আর গ্রাহক হয়রানী চরম আকার ধারণ করেছে। মিটার ভাড়ার নামে লাখ লাখ টাকা আদায়, বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ রকম রকম অনিয়ম চলছে এই সমিতিতে। এই সমিতির ভুতুরে বিল নিয়ে গ্রাহকরা রীতিমত ক্ষুব্ধ। এলাকা পরিচালক ও অসাধু কর্মকর্তাদর নিয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট চক্রের যোগসাজশে চলছে মিটার, তার ও খুঁটি বাণিজ্য। গ্রাহককে গচ্চা দিতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর জুলাই ২০১৬ সালের ভুতুরে বিল দেখে হতবাক হচ্ছেন গ্রাহক। বিশেষ কৌশলে পবিস-২ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের নিকট থেকে বাড়তি বিল আদায় করছেন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, যারা এ ব্যাপারে অভিযোগ করছেন তাদের ক্ষেত্রে বিল সমন্বয় করে দায় সারছেন কর্তৃপক্ষ। যারা অভিযোগ করছেন না তাদেরকে পুরো বিলই দিতে হচ্ছে। গ্রাহকের অভিযোগ মিটার রিডার বাড়ি বাড়ি না গিয়ে ঘরে বসে বিল তৈরী করে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।
জানা গেছে, সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর আওতাধিন গোয়াইনঘাট উপজেলার, তোয়কুল ইউনিয়নের বীরকুলী, জাঙ্গাইল, নন্দির গ্রাম, বৌলগ্রাম, লাকী, ইশপ পুর, পাইকরাজ,রস্তমপুর  ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি এলাকায়  গত মাসের বিদ্যুতের এর ভুতুরে বিলে প্রদান করেছে। এসকল এলাকায় লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বিরকুলী গ্রামের আব্দুর রহমানের বাড়িতে পবিস-২ এর বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ উনাকে পরিশোধ করতে হয় ১০৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। কিন্তু চলতি মাসে বিল দেওয়া হয়েছে ২৪৮০ /=(দুই হাজার চারশত আশি )টাকা।
অথচ গত মাসে বিল দিয়েছেন ১০৫ টাকা। যা গত মাসের তুলনায় প্রায় ২৪ গুন। একই গ্রামের মাস্টার নুরুল আলম, শিব্বির আহমদ,সহ বেশ কয়েক জন গ্রাহক জানিয়েছেন চলতি মাসে বিদুৎ বিল কয়েক গুণ বেশি লেখা হয়েছে। শুধু এগুলোই নয় এমন শত শত গ্রাহকের ক্ষেত্রে মিটার রিডিং বেশি করে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পবিস-২ এর সহকারি ম্যানেজার (বিতরন )খুরশেদ আলম জানান, কিছু ভূল ত্রুটি হয়েছে। যারা এ ব্যাপারে অভিযোগ করছেন তাদের বিল সমন্বয় করে দেয়া হচ্ছে। পবিস-২ এর এহেন কার্যক্রমে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ মিটার ভাড়া আদায়, সংযোগ নিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের কারণে গ্রাহক হয়রানী চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কর্মকর্তা ও এলাকা পরিচালকরা এ সকল অনিয়ম করে সমিতির অফিস নিজেদের সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে পবিস-২ এর জেনারেল ম্যানেজার এর মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Sharing is caring!

Loading...
Open