সিসিকের কাছেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৫ কোটি টাকা

26037ডেস্ক রিপোর্টঃ সিলেটের বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ও অফিসের কাছে বকেয়া রয়েছে শত কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল। সরকারি-আধা সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়লেও তা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেই। বছরের পর বছর ধরেই এ অবস্থা বিরাজ করছে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগে, আর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে ১শ’ ৬৬ কোটি ১৫ লক্ষ টাকারও অধিক বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে পিডিবির।

পিডিবি সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, শুধু বিভিন্ন সরকারী অফিসের কাছেই ২৯ কোটি ৯৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭শ’ ২৪ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাওনা আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট জোনের বিতরণ অঞ্চল। বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। আর এ দায় টানতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক, চিঠি চালাচালি চললেও বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। পরিশোধ হচ্ছে না বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সাধারণত ২ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কথা। কিন্তু এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দীর্ঘ ১৭ থেকে ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। আবার বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা বিতরণ কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

পিডিবির বিল খেলাপি গ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “ সিটি কর্পোরেশনের হালনাগাদ বিল যথানিয়মেই প্রদান করা হচ্ছে, এবং বকেয়া বিলও ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হচ্ছে। আর সিটি কর্পোরেশনের একমাত্র আয় যেহেতু বিভিন্ন কর হতে প্রাপ্ত তাই কর আদায় স্বাপেক্ষে বিল প্রদানে একটু বিলম্ব হয়”।

পিডিবির প্রায় ৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল পাওনা রয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গত জুন মাসে এক কিস্তিতে ২০ লক্ষ টাকা জমা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যখনই এই খাতে বরাদ্দ হয় তা সাথে সাথেই জমা প্রদান করা হয়”।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ অঞ্চল সিলেট জোনের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন , “বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বাজেটে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য অনুমিত অর্থ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু তারপরও বিল পরিশোধ করা হয় না”।

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত পিডিবির বিতরণ অঞ্চল সিলেট জোনের হিসাব অনুযায়ী ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় (২ কোটি ৫ লাখ ৫২ হাজার ৩শ’ ৩৯ টাকা), শিক্ষা মন্ত্রণালয় (১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৯শ’ ৯২ টাকা), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (৮ লক্ষ ২৭ হাজার ৩শ’ ৮৬ টাকা), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (১ কোটি ৪০ লক্ষ ৪ হাজার ৩শ’ ৪৫ টাকা), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (২ কোটি ৬২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮শ’ ৭৭ টাকা), স্থানীয় সরকার-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (৭ কোটি ৪৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪শ’ ৮৬ টাকা), ডাক-টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় (২ কোটি ২১ লক্ষ ৭ হাজার ৪শ’ ৪৬ টাকা), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (৯ কোটি ২২ লক্ষ ৫ হাজার ২শ’ ৭০ টাকা), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (৫ কোটি ১৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৮শ’ ৭৯ টাকা), বিদুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (১৩ লক্ষ ৮ হাজার ৬শ’ ৯৯ টাকা), সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় (১৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৯শ’ ৯৬ টাকা), গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় (১১ লক্ষ ২০ হাজার ৪শ’ ৩০ টাকা), মৎস ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় (১১ লক্ষ ৭২ হাজার ৮শ’ ১২ টাকা), তথ্য মন্ত্রণালয় (৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৩ টাকা), কৃষি মন্ত্রণালয় (৬ লক্ষ ৪ হাজার ২শ’ ৫৫ টাকা), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (১ কোটি ৩৯ লক্ষ ১২ হাজার ৩শ’ ৭৮ টাকা), আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় (৭৬ লক্ষ ৯২ হাজার ২শ’ ৭২ টাকা), অর্থ মন্ত্রণালয় (২৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭শ’ ২৭ টাকা), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩শ’ ৯৮ টাকা), ভূমি মন্ত্রণালয় (১৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ২৪ টাকা), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (১৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৪ টাকা), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় (১ লক্ষ ৮০ হাজার ২শ’ ৫৪ টাকা), পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় (৬৩ হাজার ৪৭ টাকা), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭শ’ ৮৯ টাকা), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (২ কোটি ৭৩ লক্ষ ২১ হাজার ১শ’ ৯৯ টাকা), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় (৭১ হাজার ৭শ’ ৩৭ টাকা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (৬ লক্ষ ৮ হাজার ৩শ’ ৯৩ টাকা), শিল্প মন্ত্রণালয় (১ কোটি ৭ লক্ষ ২২ হাজার ৬শ’ ১ টাকা), বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় (৬৮ হাজার ৮শ’ ৯ টাকা), মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২ হাজার ৬শ’ ৮৮ টাকা), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (১১ হাজার ৭২ টাকা), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২৭ হাজার ৭শ’ ৮৮ টাকা), রেলওয়ে মন্ত্রণালয় (৫৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৫শ’ ৬৮ টাকা) পাওনা রয়েছে।
যদিও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বাজেটে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য অনুমিত অর্থ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু তারপরও বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে বিল পরিশোধের তাগিদ দিয়ে ৪০টি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে যদিও কয়েক বার এ ধরনের চিঠি দেয়া হয়েছে। হয়েছে অনেক বৈঠকও। কিন্তু তারপরও বছরের পর বছর বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় হচ্ছে না।অন্যদিকে আবার বিভিন্ন কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা পিডিবির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে এবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে কঠোর হচ্ছে সরকার।

Sharing is caring!

Loading...
Open