কমলগঞ্জে বাড়ছে শিশুশ্রম : প্রতিরোধে সরকারী কোনো উদ্যোগ নেই

KAMALGANJ CHAILD SROM PIC-  1বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে উদ্বেগ জনকভাবে বাড়ছে নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। ২০১৬ সালে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের অঙ্গিকার থাকলেও কমলগঞ্জ উপজেলায় এ কাজের কোনো অগ্রগতি বা তৎপরতা নেই। সরকারী ভাবে নেই কোনো সচেতনতা মূলক কার্যক্রম। সরকার দেশকে স্বয়ং সম্পূর্ণ ও উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করলেও এ জনপদের অনেক দরিদ্র শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। বস্তিবাসির শিশু সন্তান কিংবা নি¤œ আয়ের পরিবারের বাবা-মা’র দারিদ্রতার পাশাপাশি অসচেতনতায় শিশুরাই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। অভাবের তাড়নায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এসব শিশু সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তাদের ভাগ্যে জুটছে নামমাত্র মজুরি।
শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ দারিদ্র্য, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, পরিবারের অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতা ও বেকারত্ব। এ অবস্থায় এ উপজেলায় বসবাসের জন্য আসা শিশুরা এবং এ জনপদের বিভিন্ন গ্রামের নি¤œ আয়ের পরিবারের শিশুরা দু’মুঠো অন্নের জন্য স্কুলের ব্যাগের পরিবর্তে KAMALGANJ CHAILD SROM PIC-  2পলিথিন, কাগজ, গরু মহিষের রাখাল আর টুকাইয়ের কাজসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। এসব শ্রমিকের কেউ পিতৃহীন কেউবা অভাবের তাড়নায় ঘর ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পা বাড়াচ্ছে। উপজেলার প্রধান বাণিজ্য স্থল ভানুগাছ ও শমসেরনগর বাজার এবং পৌরশহরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হোটেল-রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, ওয়েলডিং কারখানা, ওয়ার্কশপ ও রিকশা ভ্যান চালানোসহ ইমারত নির্মাণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কোমলমতি এসব শিশু নিয়োজিত।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও এ উপজেলার তার কোন কর্যকর প্রয়োগ না থাকায় আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। ফলে তাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে। ৭ থেকে ১৪ বছরের এসব শিশু বিভিন্ন পেশায় কঠিন শ্রম দিলেও তাদের প্রতিদিনের আয় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ টাকা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের মতো শ্রম দিলেও ন্যায্য পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়।
মানুষ হওয়ার এ বয়সে অনেক শিশুকে নিতে হয় জীবনের ঘানি টানার দায় মাথায় নিয়ে ইট ভাংগার মতো কঠিন শ্রমে নিজেকে নিয়োজিতকারী চক কবিরাজী গ্রামের শিশু রুহেল মিয়া(৭), নাসির উদ্দিন(৮), সানি মিয়া(৯), সেলিম মিয়া(১০), তানিম মিয়া(৯), রাজীব আহমেদ(৮), সুজন মিয়া(৭), মইনুল(১০) এর সাথে কথা হয় কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষা ইউনিয়নের সরিষতলা নামক বাজারের পাশে মুসলিম মিয়ার নতুন নির্মনাধীন বাড়ীর সম্মুখে। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,প্রতিটিন কংক্রিট তারা ৮ টাকা দরে ভাংগে। প্রতিদিন একজন শিশু শ্রমিক সর্বোচ্চ তিন চার টিন কংক্রিট ভাংতে পারে। যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসাবে পায় মাত্র ৩০/৪০ টাকা। এই বয়সে তারা হাতে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা কিন্তু কেন তাদের হাতে তুলে নিতে হয়েছে হাতুড়ি এই প্রশ্নের জবাবে তারা জানালো, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারনেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে তারা কাজে নেমেছে।
এভাবে শুধু কবিরাজি গ্রামই নয় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ গ্রামেরই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের এসব শিশুদের অভিভাবকরা ইচ্ছা থাকা সত্বেও বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারেনি তাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদেরকে। এদের সহায়তায়ও আসছে না কোন এনজিও বা সরকারি প্রতিষ্ঠান। বিধায় বাধ্য হয়েই ঝরে পড়ছে জীবনের সোনালী দিন থেকে। এভাবে আর কত দিন চলবে, কবে বন্ধ হবে শিশুশ্রম?

Sharing is caring!

Loading...
Open