মৌলভীবাজারে কাঁঠালের বাজারে ধ্বস -চাষীদের মাথায় হাত

KATHAL HAT  MOULVIBAZAR-1বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ ( মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : চলতি মৌসুমে কাঠালের বাম্পার ফলন হলেও রমজানের কারণে হাট-বাজারগুলোতে ক্াঠালের চাহিদা কম থাকায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষিরা। ফলে অধিকাংশ কাঁঠাল গাছে নষ্ট হচ্ছে। অতিস্বাদের জাতীয় ফল কাঠাল এখন গো-খাদ্যে পরিণত হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার পাহাড়ী জনপদে প্রচুর কাঠাল উৎপাদন হয়। পাহাড় অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, শমসেরনগর, আলীনগর, ইসলামপুর, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা, পৃথিমপাশা, টিলাগাঁও, জয়চন্ডী, বরমচাল, ভাটেরা এলাকার চাষিরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঠালের আবাদ করে আসছে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ফুলতলা, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে প্রতি বছর গাছে কাঁঠালের ফুল (মুচি) আসার পরই পাইকাররা এসে দামদর সাব্যস্থ করে বায়নার টাকা দিয়ে যান। এবার কাঁঠালের দাম কম থাকায় অনেক পাইকাররা বাগান ফেলে চলে গেছেন। বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেও উঠছে না যাতায়াত খরচ। ফলে ফলে অধিকাংশ কাঁঠাল গাছেই নষ্ট হচ্ছে। পাকা কাঁঠাল গাছের নিচে পড়ে থাকে। গরু ছাগল কাঁঠাল খাচ্ছে তাদের ইচ্ছেমত। কাঠালের অন্যতম পাইকারী হাঠ কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরবাজার, কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ও রবিরবাজার এবং জুড়ী উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাট বাজরগুলোতে পাইকার শূন্য, অল্প সংখ্যক পাইকার থাকলেও নেই তাদের মধ্যে কোন ব্যস্ততা। গত বছর যে কাঁঠাল ২শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবছর সে কাঠাল ২০ টাকায়ও কেউ কিনছে না। কাঁঠাল ব্যবসায়ী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। আদমপুরের পাইকারী কাঁঠাল ব্যবসায়ী ইয়াকুব মিয়া, আলতা মিয়া, সুমন আহমদ জানান, গত বছর কাঁঠালে লাভ হওয়ায় এবারে কাঁঠাল চাষীদের কাছ থেকে বেশ কয়েককটি কাঁঠাল বাগান আগেই কিনে রেখেছি। গাছে কাঁঠালও ধরেছে বেশ। কিন্তু বাজারে কাঁঠালের চাহিদা ও দাম দুটোর কোনটিই নেই। এ হাঠে আসা কাঁঠাল চাষী ইসমাইল মিয়া, আলাউর রহমান জানান, এ মৌসুমে রমজান মাস থাকায় বাজারে ক্রেতা একবারে নেই বললেই চলে। এ মৌসুমে লাভ হওয়াতো দূরের কথা কাঁঠাল বিক্রি করে বাজারে আনতে যে পরিবহণ খরচ আসে তাও লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই আমাদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open