শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না স্কলার্সহোম, শিক্ষবোর্ডে অভিযোগ

24290ডেস্ক রিপোর্টঃ সিলেটের স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের বিরুদ্ধে দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযাগ ওঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্কুলে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ।
রোববার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্কলার্সহোমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এক অভিভাবক। এছাড়া স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার (অব:) জুবায়ের সিদ্দিকীর কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন এই অভিভাবক।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার (অব:) জুবায়ের সিদ্দিকী এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের ভর্তির রিপোর্ট কার্ডেই লিখে দেয়া আছে ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ তাই আমরা দেড়শোর বেশি ফোন বিভিন্ন সময়ে জব্দ করেছি।” তিনি বলেন, “যেহেতু নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে এসেছে তাই এগুলো ফেরত দেয়ার প্রশ্নই উঠে না”।
বেদার আহমেদ নামের স্কলার্সহোম’র কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রোববার স্কলার্সহোম’র অধ্যক্ষ ও সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে মোবাইল ফোন ফেরত না দেওয়ার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বেদার আহমদ উল্লেখ করেন, স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ তার মেয়ের কাছে থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না। তিনি কলেজে গিয়ে ফোন ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
বেদার আহমেদের অভিযোগে বলা হয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৭০/১৮০ টি মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে স্তুপ করে ফেলে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকরা নিতে আসলে তাদেরকেও তা দেয়া হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, কেড়ে নেয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন সেট রয়েছে। সবমিলিয়ে যার মূল্য হবে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা।
বেদার বলেন, এসব ফোন অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বললে অধ্যক্ষ অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী বেদার আহমদের সাথে যোগাযোগ করা তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আজ স্কলার্সহোমে গিয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অধ্যক্ষের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার এই প্রতিবেদককে বলেন, একজন অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে স্কলার্সহোম’র অধ্যক্ষের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জব্দ করতে পারে। তবে পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করে তা ফেরত দেওয়া উচিত। কোনভাবেই ফেলে রেখে নষ্ট করা যাবে না।

Sharing is caring!

Loading...
Open