কানাইঘাটের বড় চতুল ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর জাপা’র দুই গ্রুপে উত্তেজনা

1কানাইঘাট প্রতিনিধি ॥  সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ¦ সেলিম উদ্দিনের আজ শনিবার কানাইঘাট আগমন নিয়ে বড়চতুল ইউপি জাপার দু’টি গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জের ধরে গতকাল শুক্রবার জেলা জাপার সদস্য শামীম উদ্দিনের বাড়ীতে পুলিশ হানা দিলে পুলিশের সাথে বাড়ীর লোকজনের ধস্তাধস্তি ও পুলিশের হাতকড়া ছিনতাই এর ঘটনায় এক ছাত্রলীগ কর্মীসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয় জাপা নেতা শামীম আহমদের বাড়ীতে। তবে, বসত ঘরের মালামাল ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করেছেন শামীম উদ্দিন। ভাংচুর করা হয় এমপির ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক। এ নিয়ে চতুলে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবশ্য, আটক ২ জনের মধ্যে একজনকে রাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, আজ শনিবার (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কানাইঘাট-দরবস্ত-চতুল সড়কের চতুল ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তÍর স্থাপনের কথা। এ লক্ষ্যে সেখানে একটি ভিত্তি ফলকও স্থাপন করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের দু’টি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সদ্য সমাপ্ত বড়চতুল ইউপির নির্বাচনে জাপা সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কিউএম ফররুখ আহমদ ফারুকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির গ্রুপের নেতাকর্মীরা এমপির আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ করে। কিন্তু, জেলা জাপার সদস্য উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উদ্দিন সমর্থিত গ্রুপ গত বৃহস্পতিবার এলাকায় মাইকিং করে ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এমপির নাম ফলক স্থাপনে বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান নিয়ে যাতে করে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়-এ জন্য কানাইঘাট থানা পুলিশ বড়চতুল ইউপির জাপার দু’গ্রুপের বিবাদ মেটাতে তৎপর হয়ে উঠে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য থানার এস.আই তাপস চন্দ্র রায় কয়েকজন পুলিশ নিয়ে জেলা জাপার সদস্য শামীম আহমদের দুর্গাপুর গ্রামের বাড়ীতে যান। এ সময় শামীম আহমদকে থানায় আসতে বলেন এস আই তাপস। এ নিয়ে ওই এস আই’র সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন শামীম। এ অবস্থায় পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে শামীমে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়।  এ নিয়ে শামীম আহমদের পরিবারের সদস্যদের সাথে পুলিশের হাতাহাতি শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কানাইঘাট থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শামীম আহমদের ভাই মাওলানা এহতেশাম ও তার ভাতিজা বড়চতুল ইউপি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিনকে (১৯) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের একটি হাতকড়া খোয়া যায়। জাপার দু’টি গ্রুপের বিরোধ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করলে বড়চতুল ইউপি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশকে দোষারোপ করে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চতুল-দরবস্ত রাস্তা অবরোধ করে চতুল বাজারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ কারণে  যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য, ৫টার পর অবরোধ তুলে নিয়ে সেখানে প্রতিবাদ সভা করে ইউপি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের আগমন নিয়ে জাপার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিনকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। তার বসত ঘরে তান্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে পুলিশ। তার(বোরহান) অন্তঃসত্ত্বা বোন শারমিন আক্তারকে পুলিশ পিটিয়ে আহত করেছে। আহত শারমিনকে জৈন্তা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাপা নেতা শামীম আহমদের ঘরের মালামাল যেভাবে পুলিশ ভাংচুর করেছে, বাড়ীর লোকজনের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে- তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বোরহান উদ্দিনকে পুলিশ ছেড়ে না দিলে চতুলবাসী কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। সভায় সেলিম উদ্দিন এমপির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ মূখর ছিলেন বক্তারা। অবশ্য, রাতে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমানের জিম্মায় ছাত্রলীগ নেতা বুরহান উদ্দিনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
জাপা নেতা শামীম উদ্দিনের অভিযোগ, দুপুর ১২টার দিকে তার বাড়ীতে এস.আই তাপসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হানা দিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ডেকে তুলে এস.আই তাপস চন্দ্র রায় পিস্তল উঁচিয়ে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ আমার বসত ঘরের ৪টি রুমের সমস্ত মালামাল ভাংচুর ও তছনছ করে। বাড়ীর মহিলাদের লাঞ্ছিত করে, আমার ভাই ও ভাতিজাকে আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের হাতকড়া ছিনিয়ে নেওয়ার সাথে তিনি জড়িত নন বলে জানান শামীম উদ্দিন।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ সেলিম উদ্দিন এমপির কানাইঘাট-দরবস্ত সড়কের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে বড়চতুল ইউপি জাপার দু’টি পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ভিত্তিপ্রস্তরের স্থান চতুল বাজারে এস.আই তাপসসহ একদল পুলিশকে সেখানে পাটাই। এস.আই তাপস বিষয়টি মীমাংসার জন্য জাপা নেতা শামীম আহমদের বাড়ীতে গেলে তিনি পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে শামীম ও তার বাড়ীর লোকজন এস.আই তাপসসহ পুলিশের উপর আক্রমণ করে হাতকড়া ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাপসকে উদ্ধার এবং পুলিশের উপর হামলা ও হাতকড়া ছিনিয়ে নেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে শামীমের ভাই ও ভাতিজাকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। শামীম আহমদের বাড়ীর মালামাল ভাংচুরের সাথে পুলিশের কোন সম্পৃক্ততা নেই। হাতকড়া উদ্ধারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open