আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার রায় বুধবার

1 ডেস্ক রিপোর্ট :: গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। গত বুধবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে দেন আদালত।

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়ে গত ৮ জুন শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহরীন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মনজু নাজনিন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েকজন আইনজীবী।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে খুন হন ওমর ফারুক রতন। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে এই মামলায় ওই বছরের ১০ জুলাই ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন। এই মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, খালাস পান অন্য দুজন।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২২ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য ২০০৫ সালে হাইকোর্টে আসে। ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন আপিল ও জেল আপিল করেন। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামি শহীদুল ইসলাম শিপু ও লোকমান হোসেন হাই কোর্টে পৃথক ফৌজদারি বিবিধ আবেদন করেন, শুধু জেল আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কানা হাফিজ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামি হলেন- নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দিপু (পলাতক), মোহাম্মদ আলী, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, আমির হোসেন, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু (পলাতক), জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, শহীদুল ইসলাম শিপু (পলাতক), হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ (পলাতক), আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু (পলাতক), ফয়সাল (পলাতক), সোহাগ ওরফে সরু, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু (পলাতক), আল আমিন (পলাতক), রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া (পলাতক), রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির (পলাতক),  জাহাঙ্গীর (পলাতক), রতন ওরফে ছোট রতন (পলাতক), আবু সালাম ওরফে সালাম (পলাতক), মশিউর রহমান ওরফে মনু (পলাতক), খোকন (পলাতক), দুলাল মিয়া (পলাতক)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামি হলেন-রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন, মনির ও অহিদুল ইসলাম টিপু (পলাতক)। খালাস পান কবির হোসেন ও আবু হায়দার ওরফে মিরপুরইয়া বাবু।

আসামিদের মধ্যে নয়জন পলাতক রয়েছেন। দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, নুরুল ইসলাম দিপু, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, মরকুনের জাহাঙ্গীর, মশিউর রহমান ওরফে মশু,  খোকন এবং অহিদুল ইসলাম টিপু। অহিদুল ইসলাম টিপুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে বাকি আটজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছোট রতন ও আল আমিন মারা গেছেন।

এক নজরে আহসান উল্লাহ মাস্টার: ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন আহসান উল্লাহ মাস্টার। ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ) একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর তিনি টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সালে দু’বার পুবাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। পরে ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Sharing is caring!

Loading...
Open