আইএসের দায় স্বীকার, ঝিনাইদহে গলা কেটে পুরোহিত হত্যা

zzঝিনাইদহ প্রতিনিধি : এবার গলা কেটে হত্যা করা হলো এক হিন্দু পুরোহিতকে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সোনাইখালী গ্রামের মহিষের ভাগাড় নামক স্থানে গতকাল এ ঘটনা ঘটে। দুবৃত্তরা জবাই করে হত্যা করে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নন্দ (৭০) নামে এক পুরোহিতকে। নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের পুরোহিত আনন্দ গোপাল একই উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের মৃত সত্য গোপাল গাঙ্গুলীর ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আইএস। আইএসের কথিত সংবাদ সংস্থা আমাকের বরাতে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন বেসরকারি সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।
নিহতের ছেলে দিনবন্ধু গাঙ্গুলী জানান, তার বাবা মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের উদ্দেশে বের হন। পথের মধ্যে মহিষাডাঙ্গা বিলের মধ্যে পৌঁছালে রাস্তার ওপর কে বা কারা তাকে জবাই করে হত্যা করে। তার বাবার কোনো শত্রু ছিল না বলে দিনবন্ধু জানান। নিহত আনন্দ গোপালের ভাজিতা অরুণ গাঙ্গুলী জানান, তার কাকা এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। এক মটরসাইকেলে তিনজন এসে আকস্মিকভাবে তার কাকা বাবুকে হত্যা করেছে বলে তিনি শুনেছেন। স্থানীয় ইউপি মেম্বর আব্দুর রশিদ জানান, আনন্দ গোপাল তার প্রতিবেশী ছিলেন। প্রতিদিন তিনি বাইসাইকেলে চড়ে নলডাঙ্গা মন্দিরে পূজা করতে যেতেন।  সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবীর হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা আনন্দ গোপাল নন্দকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তিনি জানান, খবর পেয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নন্দ মন্দিরে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজ বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার মহিষের ভাগাড় বিলের মধ্যে পৌঁছালে তিনজন হেলমেট পরিহিত মোটরসাইকেল আরোহী তার গতি রোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। লাশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নন্দের হাত, মাথা, ঘাড়, গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুরোহিত হত্যার খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান ও ঝিনাইদহ র‌্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান। দুপুর ১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের জানান, খ্রিষ্টান চিকিৎসক সমির খাজা ও শিয়া ধর্মালম্বী হোমিও চিকিৎসক কালীগঞ্জের আব্দুর রাজ্জাক হত্যার সঙ্গে এ ঘটনার মিল রয়েছে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুরোহিতকে কে বা করা হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এ ঘটনার পর গোটা জেলার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি আশা করেন, খুব দ্রুতই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open