দাতাদের অর্থ ছাড় বেড়েছে

flyover-2220160529232206নিউজ ডেস্ক : বিদেশি সহায়তার অর্থ ছাড় করার পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দাতা গোষ্ঠীর বৈদেশিক সহায়তার ছাড়ের সঙ্গে বেড়েছে প্রতিশ্রুতিও। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইআরডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে ২৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

অর্থবছরের দশ মাসের এ ছাড় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি। গত অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ছাড় হয়েছিল ২৩৮ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের দাতাদের কাছ থেকে ৩৬৬ কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্থছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। সে হিসেবে বাকি দু’মাসে আরো প্রায় ৯৮ কোটি ডলার ছাড় করাতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এবার বেশি ছাড়ের টার্গেট থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ছাড় বাড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে পারলে অর্থছাড় আরো বাড়বে। তারপরও লক্ষ্যমাত্রাকে ধাওয়া করে ছাড় করতে পারা অবশ্যই কৃতিত্বের বিষয়। বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দাতাদের কাছ থেকে অর্থ ছাড় করতে পারবো বলে আমি আশাবাদী।’

একই সময়ে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দাতাদেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সরকার ৪৩১ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছে। এ প্রতিশ্রুতি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে সরকার দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছিল ২৭৫ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে রেখেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে অর্থবছরের বাকি দু’মাসে সরকারকে আরো ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে।

এ বিষয়ে ফরিদা নাসরিন বলেন, প্রতিশ্রুতি আদায়েও ইআরডি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ প্রতিশ্রুতি আদায় করা অবশ্যই কৃতিত্বের। অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, চলতি মাসেই বিশ্বব্যাংক ও জাইকাসহ বেশ কিছু সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। শিগগিরই আরো বেশ কিছু চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি আদায়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

এদিকে অর্থবছরের দশ মাসে সরকার দাতাদের কাছে পুঞ্জিভূত পাওনা থেকে পরিশোধ করেছে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে পরিশোধ করতে হয়েছিল ৯৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

Sharing is caring!

Loading...
Open