৫৩ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত : সিইসি

Kaji-Rifik2নিউজ ডেস্ক : প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, গোলযোগ ও অনিয়মের কারণে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৫৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, এবার সিল মারা কমলেও সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি । এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান ও জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সিইসিকে পদত্যাগে বিএনপির আহ্বানের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উনারা রাজনৈতিক দল। উনাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমার কিছু বলার নেই। তবে সিল মারার ব্যাপারে উন্নতি হয়েছে, আহত-নিহতের সংখ্যা বোধহয় বেড়েছে।
রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রত্যেক ধাপেই সব ব্যবস্থা নিয়েছি। এবারও পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও কেউ যাতে পক্ষপাত আচরণ না করে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, এ পর্যায়ের বেশকিছু জায়গায় হানাহানির ঘটনা ঘটেছে, ভোট বন্ধও করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১৭টি ইউপির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সহিংসতায় কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন পোলিং কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এজন্য গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের নির্দেশনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে কোথাও আগের রাতে সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। যেখানে অনিয়ম হয়েছে সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সহিংসতার কারণে কোথাও কোথাও কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গুলিও করেছে।
সিইসি বলেন, ৬ হাজার ৮৮৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি এ পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আরও বন্ধ করা হবে। অনিয়মের কারণে একজন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আটক করা হয়েছে। ১৪০ জনকে দুই লাখের বেশি জরিমানা এবং একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সহিংসতা সম্পর্কে তিনি বলেন আমি আশ্চর্য হচ্ছি- কেন এমন করেন! কোনো অভিযোগ থাকলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। হাইকোর্টে যেতে পারেন। কোনো জায়গায় কারো মাথায় লাঠি মারার কোনো দরকার নেই।
তিনি বলেন, আমরা কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আজকাল জানের কোনো দাম নেই। এসব ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের ধরা ও অস্ত্র উদ্ধার করার কথা বারবার বলি। এ দুটি ভালো করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিন্তু অনেক অস্ত্র উদ্ধার করছে। ওটা নরমাল নিউজ। ওটা ওভাবে আসে না। তারা নিজের জানের তোয়াক্কা না করে দায়িত্ব পালন করছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open