দুই এয়ারবাস বিক্রির দরপত্র আহ্বান জুনে

bimanনিউজ ডেস্ক : প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বহরে নতুন প্রজন্মের জ্বালানি সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিমান। এ কারণে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ায় ও লোকসান থেকে বাঁচতে বহরে থাকা দুটি পুরোনো ৩১০-৩০০ এয়ারবাস বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।  এ লক্ষ্যে জুনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে বিমানের একটি সূত্র।
সূত্র জানায়, উড়োজাহাজ দুটির উড্ডয়ন মেয়াদ আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে। এর পরই এগুলো উড্ডয়ন উপযোগী রাখতে হলে ডি-চেক (বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ) করাতে হবে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাই ডি-চেকের আগেই ব্যয়বহুল এ উড়োজাহাজ দুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহা-ব্যাবস্থাপক খাঁন মোশাররফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এয়ারবাস-৩১০ এখন আগের মতো সার্ভিস দিচ্ছে না।  তাই এক্সপার্টদের পরামর্শে এগুলো যথাযথ নিয়মে বিক্রি করা হবে।
বিমানের অপর এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, একের পর এক ত্রুটি দেখা দেয়ায় এগুলো বিমানবহরের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে। এর আগে ২০১২ সালে এয়ারবাস-৩১০-এর ডি-চেক করাতে গিয়ে বিমানকে ৩১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হয়েছে।
তারও আগে দুবাই বিমানবন্দরে একটি এয়ারবাসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি আর দেশে আনা সম্ভব হয়নি। সেখানেই এয়ারবাসটি স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দিতে হয়। এছাড়া প্রায়ই উড়োজাহাজে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে জ্বালানি তেল ফেলে দিয়ে সেটি জরুরি অবতরণ করাতে হয়। এতেও বড় অঙ্কের অর্থ গচ্চা যায়।
উল্লেখ্য, বিমানের বহরে এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ যুক্ত হয় ১৯৯০ সালে। সে সময় সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় দুটি এয়ারবাস-৩১০ কেনা হয়। এর একটি উড়োজাহাজ দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে অচল হয়ে যায়। পরে আরো একটি এয়ারবাস-৩১০ পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেয়া হয়, পরবর্তীতে যা কিনে নেয় বিমান।
উল্লেখ্য, লোকসানে থাকা বিমানকে মুনাফার ধারায় ফেরাতে ২০১১-১৪ সাল পর্যন্ত আনা হয় চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। এগুলোর নামকরণ হয় যথাক্রমে-পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত।

পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ হিসেবে দুটি ৭৭৭-২০০ ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ ও দুটি ড্যাশ-৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘমেয়াদি  লিজ চুক্তিতে সংগ্রহ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এছাড়া গত নভেম্বরে ‘মেঘদূত’ এবং ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ‘ময়ূরপঙ্খী’ নামে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন দুইটি উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যোগ হয়েছে।

এদিকে চুক্তি অনুযায়ি আগামী ২০১৮ সাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ নতুন চারটি  ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’ উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে মার্কিন বিমান নির্মান প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানি।

Sharing is caring!

Loading...
Open