সেলিম ওসমান শামীম ওসমান ও আইভীর তিন চ্যালেঞ্জ

2নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি, উন্নয়ন ও ঐক্য নিয়ে তিন আলোচিতের তিনটি চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এ তিনটি চ্যালেঞ্জে কেউ পিছু হটলে কিংবা হেরে গেলে ভবিষ্যতে তাদের সক্ষমতা ও অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
চ্যালেঞ্জে সেলিম ওসমান
২০১৪ সালের ২৬ জুন উপ নির্বাচনে ভাইয়ের আসনে জয়ের পর থেকেই ঐক্যের ডাক দিয়ে আসছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। তিনি বার বার মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে এক টেবিলে বসার আহবান করেছিলেন। কখনো কখনো তাদের বক্তব্যে এক পাওয়া গেলেও কখনো গরমিল পাওয়া যায়। তবে সেলিম ওসমান সকল ধরনের অপরাজনীতি দূর করে ঐক্যের কথা বলে আসছেন। সবশেষ তিনি ৩১ মার্চ একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমাদের অতীতে যে ভুল ছিল সেগুলো আজ এই বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এসেছে। আগে মানুষ নারায়ণগঞ্জের নাম শুনলে ভয় পেত, নারায়ণগঞ্জের নোরাংমির রাজনীতি শুরু হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে ৪০০ বছরের পুরনো কলঙ্ক ছিল। শামীম ওসমান সেই কলঙ্ক দূর করেছে। সে কারনে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। আজকে আমরা নারায়ণগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার চেষ্টা করছি। আজকে নারায়ণগঞ্জে যে প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে তা হচ্ছে কে মেয়র, কে চেয়ারম্যান কে সংসদ সদস্য হয়ে উন্নয়ন করবে। কে কার আগে দ্রুত উন্নয়ন কাজ করবে। এ প্রতিযোগীতার নাম উন্নয়নের প্রতিযোগীতা। আমি নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করবো নারায়ণগঞ্জের এ উন্নয়নের কথা যেন তারা তাদের লেখনিতে তুলে ধরেন। নারায়ণগঞ্জে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পায়নের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এর আগেও সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমার কাছে অন্য কিছু চায় না। তারা চায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অপরাজনীতি দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিছু দু’মুখো সাপ রয়েছে যারা আমার ভাইয়ের কাছে আমার বোনে কাছে গিয়ে অপরাজনীতি করে আশান্তি সৃষ্টি করে রাখছে। তারা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। নারায়ণগঞ্জের শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারায়ণগঞ্জের সবাই যদি আমাকে সহযোগীতা করেন তাহলে প্রয়োজনে দু’মুখো সাপ যারা আছে তাদের পেটে পাড়া দিয়ে অপরাজনীতি দূর করবো।

সেলিম ওসমানের বক্তব্যে ঐক্যের যে আহবান রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে আবারও উদ্যোগ নিতে হবে। এটা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জে মেয়র আইভী
৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘জনতার মুখোমুখি’ হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও পরিষদের কাউন্সিলরা। ওই অনুষ্ঠানে আইভী একটি চ্যালেঞ্জ নিজেই নিজের উপর নিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কোন কাজ বন্ধ হয়নি। জাইকার ৫০০ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার হয়েছে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। আরো ১৫০ কোটি টাকার টেন্ডার এ দুই মাসের মধ্যে হবে। সরকার আমাদের অধিকার দিয়েছে জলাশয় রক্ষা করার জন্য। এটা ভরাট করে বিক্রি করার জন্য নয়। রেলওয়ে বিক্রি করতে পারবে না। যতদিন পর্যন্ত আমি নারায়ণগঞ্জে বেঁচে আছি ততদিন পর্যন্ত পারবে না। আমরা লাশের উপর দিয়ে ওই জমি বিক্রি করতে হবে রেলওয়েকে। আমার প্রাণ থাকতে ওই জলাশয় রক্ষা করবোই। আইনের মাধ্যমেই হোকা আর যেই ভাবেই হোক। যদি মামলা হয় আমার বিরুদ্ধে হবে। আমি মামলা ফেস করে তারপর নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিয়ে এ লেক অবশ্যই করবো। কারণ এ জলাশয় রক্ষা করবোই। যেটা প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছে সারা বাংলাদেশে যে জলাশয় গুলো আছে সেগুলো রক্ষা করার জন্য। ২০১০ সালে সরকার গেজেট করেছে এখানে পার্ক ও জলাশয় রক্ষা করার জন্য সুতরাং আমার মনে হয় না আমি কোন অন্যায় কাজ করছি। ভবিষ্যতে এখানে লেকও হবে পার্কও হবে সেটা যদি ২ বছর কি ৫ বছর পরেও হয় হবে। তারপরও এখানে প্লট করে বিক্রি করতে দেয়া হবে না। জলাশয় রক্ষা করতে না পারলে এমন মেয়রশীপের প্রয়োজন নাই। জলাশয় রক্ষা করতে না পারলে পদত্যাগ করবো। নতুবা আমি পদত্যাগ করবো।

আইভীর ওই বক্তব্যে বেশ স্পষ্ট হয়েছে তিনি যে কোন মূল্যে দেওভোগ জিমখানা লেক করেই ছাড়বেন। নতুবা তিনি পদত্যাগ করবেন। আর যদি সেখানে কোন স্থাপনা কিংবা বাণিজ্যিক কিছু করতে হয় তাহলে তাঁর লাশের উপর দিয়ে করতে হবে। এ অবস্থায় আইভী নিজেই বড় চ্যালেঞ্জ নিজের সামনে নিয়েছেন। এটা বাস্তবায়ন তার জন্য বেশ কঠিন হলেও তিনি যে আপ্রাণ লড়াই চারিয়ে যাবেন সেটা বক্তব্যে ফুঁটে উঠেছে। ফলে পার্ক বাস্তবায়ন আইভীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জে এমপি শামীম ওসমান
আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নিয়ে বেশ বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। কারণ ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন ননা।

Sharing is caring!

Loading...
Open