কমলগঞ্জে সহস্রধিক জনতার থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই সমর্থক গ্রেফতার

Pic--Kamalgonjকমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নে এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই সমর্থকের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দরজা ভেঙ্গে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে। রাতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে পড়ে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলি ও ধ্স্তাধস্তিতে তিন নারী আহত হয়েছেন। থানায় এনে গ্রেফতারকৃতদের আসামী করে মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে ৩০ কি:মি: সহ¯্রাধিক বিক্ষুদ্ধ জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। শুক্রবার রাত আড়াইটায় ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর কোণাগাঁও গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটলে শনিবার (২১ মে) বেলা ১২টায় ভোটারদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শণ হয়।
শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে খোঁজ নিয়ে গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বড় ভাই আব্দুল হান্নানের সমর্থকদের সাথে ছোট ভাই আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলেমান মিয়ার সমর্থকদের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আড়াইটায় কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শ্রীপুর কোনাগাঁও গ্রামে মৃত সুন্দর আলী ও আব্দুল খালিকের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যরা দরজা খোলতে বলার পরও এই দুই বাড়ির দরজা না খোলায় লাথি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে মৃত সুন্দর আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৩৫) ও আব্দুল খালিকের ছেলে শাহীন আহমদ(৩০)কে গ্রেফতার করে টেনে হিচড়ে পিকআপে তুলে। এসময় বাড়ির লোকজনসহ গ্রামবাসীরা হাল্লা চিৎকার করে বাঁধা দিলে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ফাঁকা গুলি ও ধস্তাধস্তিতে আব্দুর রউফের মা ভানু বেগম(৫০), তার দুই মেয়ে লিপি বেগম (১৪) ও সুমি বেগম(১৫) আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আটককৃতদের মুক্তির দাবীতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হান্নানের সহ¯্রাধিক সমর্থক বৃষ্টি উপেক্ষা করে করে উপজেলা সদরে কমলগঞ্জ থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। পদযাত্রার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় ইসলামপুর-কমলগঞ্জ সড়কের চন্ডিপুর এলাকায় বিক্ষোব্দ ভোটাররা অবস্থান নেয়। পুলিশি বাঁধার মুখে পড়ে বিক্ষোব্দ ভোটাররা আর থানা ঘেরাও করতে পারেনি।
এ ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হান্নান ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসানসহ পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ইসলামপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান জানান, একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলায় তালিকাভুক্ত আসামী আব্দুর রউফ ও শাহীন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক দফা অনুরোধের পরও বাড়ির লোকজন দরজা না খোলায় ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কোন নারীর গায়ে হাত তুলেনি। উল্টো পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করাসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। তখন আত্ম রক্ষার্থে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
ইসলাপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হান্নান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছোট ভাই সুলেমান মিয়ার পক্ষে ও একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান পরিকল্পিতভাবে এ নোংরা অভিযান চালায়। মামলার আগে তার( হান্নানের) এক ভাগ্নে ও এক ভাতিজাকে গ্রেফতার করে এনে পরে মামলা করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলেমান মিয়ার ছেলে লিমন মিয়া বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কার সমর্থকরা শুক্রবার সন্ধ্যায় মিছিল করে নৌকা প্রতীকের প্রচারনায় বাঁধা দিয়ে সাউন্ড বক্স ভেঙ্গে দেয়। এই অভিযোগে তাদের এক সমর্থক সাদেক মিয়া কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উত্তেজনা নিরসনে ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি জরুরী বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন যেহেতু একটি নিয়মিত মামলা হয়ে গেছে সেহেতু আদালতে আবেদনক্রমে জামিন লাভ ছাড়া আসামীদের ছাড়ার কোন সুযোগ নেই। আর এখন থেকে প্রশাসন ইসলামপুর ইউনিয়নের উপর সর্ব্বোচ্চ নজরদারী করবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open