ডিএমপি প্রকাশিত ছয় জঙ্গির একজন সিলেটের

21949ডেস্ক রিপোর্টঃ একাধিক ব্লগার হত্যাকারী সন্দেহে ছয়জনের ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ছবির ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিলে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটে বলে জানা গেছে। তার নাম সিফাত।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যে ছয় জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাদের নাম ও সম্ভাব্য ঠিকানা :

শরিফ : এবিটির এ গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক তাদের সংগঠনে শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ নামে পরিচিত। তার বাড়ি বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেশনের সদস্য নির্বাচন ও সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অভিজিৎ রায় হত্যা, গোড়ানে নীলাদ্রী নীলয় হত্যা, লালমাটিয়ায় আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যা চেষ্টা এবং সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যা মামলার তদন্তে এসব ঘটনায় তার সরাসরি উপস্থিতি এবং সার্বিক নেতৃত্ব দেয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়াও শরিফুল ওরফে হাদী-১ জাগৃতি প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা এবং গত দুই মাসে সূত্রাপুরে সংগঠিত ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে জানা যায়। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তার সমন্ধে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

সেলিম : এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক তাদের সংগঠনে সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী-২ নামে পরিচিত। সে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলে। তার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, চশমা পড়ে এবং শ্যামলা বর্ণের, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে বলে জানা যায়। প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, ওয়াশিকুর বাবু হত্যা, নিলাদ্রী নীলয় হত্যা, মিরপুরের স্কুল শিক্ষক হত্যাচেষ্টা মামলাগুলোর তদন্তে এসব ঘটনায় তার সরাসরি উপস্থিতি এবং সার্বিক নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়াও গত দুই মাসে সূত্রাপুরে সংগঠিত ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি উপস্থিতি ও সার্বিক নের্তৃত্বের বিষয়টি মামলার তদন্তে জানা যায়। সে সংগঠনের সদস্যদের সামরিক, আইটি ও কথিত জিহাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তার সমন্ধে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

সিফাত : এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের সংগঠনে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান নামে পরিচিত। তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এ হত্যাকাণ্ডে সে সার্বিক সমন্বয়কারী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে। এছাড়াও তদন্তে সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি পাওয়া যায়।

সে এবিটির বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

রাজু : এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের সংগঠনে আ. সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ নামে পরিচিত। তার বাড়ি কুমিল্লা অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা ঘটনার মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এ হত্যাচেষ্টায় সে সার্বিক সমন্বয়কারী ও হত্যাচেষ্টায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালনসহ সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়াও সে সংগঠনের সদস্যদের জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে ধর্মীয় আলোচনা বা বয়ান দিয়ে থাকে।

সে এবিটির দুর্ধর্ষ সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। এবিটির এ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সিহাব : এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের সংগঠনে সিহাব ওরফে সুমন ওরফে সাইফুল নামে পরিচিত। তার বাড়ি চট্টগ্রাম অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যমত সদস্য। প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা ঘটনার মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এ হত্যাচেষ্টায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। সে এবিটির বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়।

এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সাজ্জাদ : এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের সংগঠনে সাজ্জাদ ওরফে সজিব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস নামে পরিচিত। তার বাড়ি ঢাকার পার্শ্ববর্তী কোনো জেলায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতা। অভিজিৎ রায় হত্যা, নিলাদ্রী নীল হত্যা মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ওই সব ঘটনায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

এছাড়াও এসব মামলা তদন্তে আরো জানা যায় যে, সে সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকাণ্ডেও সরাসরি অংশগ্রহণ করে। সে এবিটির দুর্ধর্ষ সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

উল্লেখিতদের সম্পর্কে তথ্য দিতে ০১৭১৩-৩৭৩১৯৪, ০১৭১৩-৩৭৩১৯৮, ০১৭১৩-৩৭৩২০৬. ০২-৯৩৬২৬৪০ এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য [email protected]এই ই-মেইল আইডিও দেয়া হয়। এছাড়া, তথ্য দাতার নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে সংগঠিত ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আসছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ।

সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার সাতারকুল ও মোহাম্মদপুরে আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) দুটি আস্তানায় গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে বাড্ডা সাতারকুলে এবিটির সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মোহাম্মাদপুরের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

অভিযানে সেখান থেকে আনসার উল্লাহ বাংলার দুই জন সদস্য গ্রেপ্তার হয় এবং একজন পুলিশ সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়। তাদের দেয়া তথ্য ও সেখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নথিপত্রের ভিত্তিতে অত্র সংগঠনের আরও দুটি আস্তানার সন্ধান ঢাকার আশকোনা ও দক্ষিণখানে পাওয়া যায়। এর মধ্যে দক্ষিণখানে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

সব অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য, চলমান মামলাগুলোর তদন্তে ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃ-স্থানীয় ব্যক্তি সমন্ধে তথ্য পাওয়া যায়। যাদের সঠিক নাম-ঠিকানা পরিচয় প্রাপ্তিসহ ধরিয়ে দেয়ার জন্য দেশের সর্ব-সাধারণের সহযোগিতা কামনা করছে ডিএমপি।

Sharing is caring!

Loading...
Open