বৃষ্টিতে ভিজে ‘কান ধরে’ প্রতিবাদ

2শাবি প্রতিনিধি : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করার পর স্থানীয় সাংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে কান ধরে উঠাবসা করানোর ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কান ধরে দাঁড়িয়ে’ প্রতিবাদ জানিয়েছে একদল শিক্ষার্থী।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আধা ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে হালকা বৃষ্টির মধ্যে তাদের এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে।

শিক্ষার্থীরা বলেন- এভাবে হয়রানির শিকার হলে শিক্ষকদের মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা আজ ভাববার বিষয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করবে।

তারা বলেন- মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শ্যামল কান্তি ভক্ত স্যারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই এ কর্মসূচি। সংশ্লিষ্ট সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- কর্মসূচির আহ্বায়ক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরিকা চৌধুরী, সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নোমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মুশতাক আহমদ, শাহরিয়ার সোহান, খইরুম কামেশ্বর, স্বপন আহমেদ প্রমুখ।

ওই শিক্ষককে অপদস্ত করার ৩ দিন পর বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ৮ মে স্কুলের এক ছাত্র মারধরের সময় আল্লাহ-রাসুলের নাম মুখে নিলে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূ কথা বলেন। পরে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রের মা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করলে শুক্রবার এ বিষয়ে স্কুলে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকের সময় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। তারা শিক্ষককে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানকে খবর দেয়া হয়। তিনি সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। ওই সময় শ্যামল কুমার ভক্ত প্রকাশ্যে কানে ধরে ওঠ-বস করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এর আগে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তার ওপর নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এমন অপবাদ দিয়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছিল।

শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, তিনি স্কুলের এক ছাত্রকে সাজা দিতে গিয়ে মারধর করেছিলেন। সেই ঘটনাটিকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, এই ছাত্রকে মারার সময় তিনি ধর্ম সম্পর্কে কটু কথা বলেছেন। এরকম কোনো মন্তব্য করার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন। স্কুলের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে যারা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তারা পুরো ঘটনার পেছনে আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open