বিএনপির টার্গেট ছিল দ্রুত ক্ষমতা দখল

2_32238ডেস্ক রিপোর্টঃ দ্রুত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছিল বিএনপি। এ লক্ষ্যে অরাজকতার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে নামেন আসলাম চৌধুরী। দ্রুত কাজ সারতে তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা যোগাযোগ করেন। ইসরাইলের এ সংস্থার সহায়তায় প্রশিক্ষিত জঙ্গি তৈরির উদ্যোগ নেন বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব। পরে এদের দিয়েই বাংলাদেশে হামলা চালানোর লক্ষ্য স্থির করেন এ নেতা। রোববার সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর এ দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন আসলাম চৌধুরী।
জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আসলাম চৌধুরী দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা চালানোর পরিকল্পনা। এজন্য তিনি মোসাদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সরবরাহ চান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে কাজ শুরু করে বলে আসলাম চৌধুরী গোয়েন্দাদের জানান।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আসলাম সংস্থাটির এজেন্টদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ব্যবসার আড়ালে ওইসব দেশ ভ্রমণের সময় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ ধরনের কোনো একটি বৈঠকে বিএনপিকে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দেয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়ার জন্য তারা সম্মত হয়।
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন এ ধরনের খবর বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নজরদারির আওতায় আনে। এরপর রোববার সন্ধ্যায় কুড়িল বিশ্বরোড তিনশ’ ফুট রাস্তার একটি চেকপোস্ট থেকে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার আসলাম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেছেন, আপাতত আসলাম চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ওই মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।
মোসাদের এক এজেন্টের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর প্রায় ১৫ বছর আগে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জাহাজে অস্ত্র পরিবহনের সময় ওই গোয়েন্দা সংস্থাটির সম্পর্ক হলেও মাঝে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি আবারও সম্পর্ক গড়ে উঠে গোয়েন্দা সংস্থাটির সঙ্গে।
এদিকে প্রথমদিকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের কয়েক নেতা প্রথমদিকে সহায়তা করলেও পরে তারা পিছটান দেন। বাংলাদেশী গোয়েন্দাদের মতে, তারা বুঝে গিয়েছিলেন মোসাদ বাংলাদেশে ঢুকলে তাদের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে। আর বিষয়টি বুঝতে পেরেই বিএনপির সঙ্গে মোসাদের সম্পর্কে ছেদ ঘটাতে তা ফাঁস করে দেন। আর খবর পেয়ে বাংলাদেশও তৎপর হয়ে ওঠে।
পুরুলিয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলার ঘটনায়ও জড়িত ছিলেন আসলাম : ২০০২ সালে বিমান থেকে ভারতের পুরুলিয়ার অস্ত্র ও গোলাবরুদ ফেলার ঘটনায় নেপথ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। ওই অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল ভারতে ওই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে হস্তান্তরের জন্য। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়েই তিনি এ কাজটি করার চুক্তি করেছিলেন। সে সময় ভারতের সঙ্গে মোসাদের ‘দা কুড়ালের’ সম্পর্ক ছিল। তবে ওই অস্ত্র ফেলার কথা ছিল বাংলাদেশের গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকার গহীন বনে। সেখান থেকে তা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। ইউক্রেনের বিমানটি ভুল করে তা ভারতের পুরুলিয়ায় ফেলে দেয়। ভারত তখন বিমানটি অবতরণ করতে বাধ্য করে এবং বিমানের পাইলটসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে।
গোয়েন্দা সূত্রটি জানায়, ইউক্রেন থেকে ওই অস্ত্র কেনার জন্য এলসি খোলা হয় স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে। ওই ঘটনার পর মূলত মোসাদের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন তিনি গা ঢাকা দিয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের খবর গত ৯ মে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’-এ প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠক সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশে তোলপাড় শুরু হয়। আসলাম চৌধুরীর ওপর জারি হয় দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা। তখন থেকেই মূলত আসলাম চৌধুরী গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। যুগান্তর

Sharing is caring!

Loading...
Open