মোগলাবাজার থানার ওসির বিরুদ্ধে জামায়াতপ্রীতির অভিযোগ

59507নিউজ ডেস্ক :সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজলের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্টতা’ ‘আঁতাত’ ‘জামায়াতপ্রীতি’ ‘ওয়ারেন্ট কেলেংকারি’ ও ‘জনহয়রানি’র অভিযোগ ওঠেছে। দক্ষিণ সুরমার হবিনন্দী গঙ্গানগরের প্রবাস ফেরত নজরুল ইসলাম ফোকন শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেন।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম ফোকন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে হবিনন্দী গ্রামে থাকা তার মায়ের বসতভিটে থেকে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেয় একই গ্রামের জুনেদ আহমদ, জুয়েল আহমদ, ফারুক মিয়া, আব্দুল জলিল ময়না, বাবু মিয়া, আব্দুস সালাম উজ্জল, সাজন আহমদ, লুৎফুর রহমান সেলিম, রেহেনা উদ্দিন ও মসুদ শাহসহ তাদের সহযোগীরা। এ ঘটনায় তার মা রোকিয়া বেগম মোগলাবাজার থানায় অভিযোগ দিলে ওসি খায়রুল ফজল তা আমলে না নিয়ে উল্টো দখলবাজদের সহায়তা করেন। ফলে বাস্তুহারা নজরুল বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে একই থানাধীন পশ্চিমভাগ আবাসিক এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হন।’

তিনি বলেন, ‘‘থানা পুলিশের সহায়তা পেয়ে ভুমিদস্যুচক্র আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা এ বছরের ২২ মার্চ তার স্বত্বদখলীয় মার্কেট ও স্কুল তওহীদ একাডেমীতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় হামলাকারীরা একাডেমীর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখলে পুলিশের উপস্থিতে এলাকার লোকজনের সহায়তায় তারা মুক্তি পায়। হামলাকারীরা তাওহীদ একাডেমীর দেয়ালে রাখা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়ে পদদলিত করে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ফোকন এসএমপির মোগলাবাজার থানায় অভিযোগ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ওসি খায়রুল ফজল তার মামলা নেন নি।  মামলা নেয়ার জন্য তিনি এসএমপির ডিসি (দক্ষিণ) বাসুদেব বনিকের হস্তক্ষেপ চাইলে ওসি খায়রুল ফজল ‘থানায় এসি-ডিসির কোন বেইল নেই’ বলে তাকে তাড়িয়ে দেন।’’

নজরুল ইসলাম ফোকন জানান, ‘ঘটনাটি তিনি এসএমপি কমিশনার ও ব্যাব-৯ কে অবহিত করেও কোন প্রতিকার পান নি। ভুমিখেকো জামায়াত-শিবির চক্রের সাথে আঁতাত করে ওসি খায়রুল ফজল নজরুলের বিচার প্রাপ্তির সব পথ রুদ্ধ করে দেন। এতে করে ভুমিদস্যুদের আস্ফালন আরো বেড়ে যায়। তারা গত ১২ এপ্রিল ফের নজরুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এসময় তারা তার গাড়ি ভাংচুর, নাগদ ৩৫ হাজার টাকা, গাড়ি ও স্কুলের কাগজপত্র  ছিনিয়ে নেয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এ ঘটনায় কোন মামলা নেয়নি মোগলাবাজার থানা পুলিশ। উপরন্ত ১৪ এপ্রিল অমানবিকভাবে আহতাবস্থায় নজরুলকে আটক করে থানা পুলিশ। পরে ওসি খায়রুল নিজে জনৈকা নাজমীনকে দিয়ে মিথ্যে মামলা (নং-০৩(৪)১৬ ) করিয়ে তাকে জেলে প্রেরণ করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম ফোকন নিজেকে ‘স্বাধীনতা স্বপক্ষের’ ও  মেগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজলকে ‘জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট’ দাবি করে জানান, ‘মিথ্যে মামলায় গ্রেফতারের পর তার জেলবাস দীর্ঘায়িত করার হীন মানসে ওসি খায়রুল জামায়াত-শিবিরের সাথে আঁতাত করে ওয়ারেন্ট কেলেংকারির মাধ্যমে তাকে আরেকটি মামলায় অহেতুক গ্রেফতার দেখান।’

তিনি জানান, ২০১১ সালে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এসময় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সিলেট কোতায়ালী থানায় একটি পুলিশ এসল্ট মামলা (নং-১৫(০৯)১১) হয়। মামলায় জামায়াত-শিবিরের ৩০৫ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ চার্জশিটে ২৭৬ নং আসামী হচ্ছেন এসএমপির দক্ষিন সুরমা থানার পালপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সিরাজের পুত্র জামায়াতকর্মী নজরুল ইসলাম কিরণ (৩০)। নামের সাথে আংশিক মিল থাকার সুযোগে ওসি খায়রুল পলাতক আসামী জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম কিরনকে গ্রেফতার না করে এর বদলে তাকে গ্রেফতার করেন। থানা গ্রাম ও নামে ভিন্নতা থাকা সত্বেও ওসি খায়রুল ওয়ারেন্ট জালিয়াতি ও কেলেংকারির মাধ্যমে তাকে গেফতার করেন। পাশপাশি সূ² কারচুপির মাধ্যমে পলাতক জামায়াতকর্মী নজরুল ইসলাম কিরণকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন।’ ওয়ারেন্ট জালিয়াতি ও কেলেংকারির এ ঘটনার মধ্যদিয়ে মোগলাবাজার ওসি খায়রুল ফজলের জামায়াতপ্রীতির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে নিজের বক্তব্যে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম ফোকন।

সংবাদ সম্মেলনে নজরুর ইসলাম ফোকন এহেন জালিযাতি, কারচুপি ও কেলেংকারির দায়ে ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম ফোকনের মা রোকিয়া বেগম, স্ত্রী বাবলী ইসলাম ও শিশুপুত্র তওহীদ ইসলাম।

Sharing is caring!

Loading...
Open