১০ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে মাহমুদুর রহমান

63113ডেস্ক রিপোর্টঃ আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে কথিত অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় পর পর দু’দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন এ আদেশ দেন। আদেশের পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সোমবার দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে শেষে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসে ডিবি পুলিশ। ম্যাজিস্টেটের সামনে আদালতে তাকে ওঠানো হয়নি। আইনজীবী কিংবা সহকর্মী কারও সাথেই দেখা করতে দেয়া হয়নি। আদালতের অনুমতি নিয়ে বেলা দু’টার দিকে কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যদিও ডিবি পুলিশ কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে রিমান্ডে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কাশিমপুরে না পাঠিয়ে তাকে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠিয়েছে।
এর অাগে সোমবার(আজ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বড় একটি প্রিজন ভ্যানে করে মাহমুদুর রহমানকে ডিবি অফিস থেকে বের করে প্রথমে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি অফিস থেকে বের করার সময় আরও কয়েকজন আসামিকে একই প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। যেটা কখনও করা হয়না। প্রিজনভ্যানে সবসময়ই মাহমুদুর রহমানকে একাই আনা-নেয়া করা হয়। কিন্তু সোমবার এর ব্যাতিক্রম ঘটিয়েছে ডিবি পুলিশ। শাহবাগ থানায় কিছু সময় অপেক্ষা করে আরও কিছু আসামিকে একই প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নিউমার্কেট থানায়। সেখানেও মাহমুদুর রহমানের প্রিজন ভ্যানে আরও কিছু আসামি তোলা হয়। পরে প্রিজনভ্যানটি সিএমএম কোর্টের দিকে রওয়ানা দেয়।
১০ দিনের রিমান্ড শেষে আইনজীবী বা সহকর্মী কারও সাথেই মাহমুদুর রহমানকে কথা বলতে না দেয়ায় এবং ম্যাজিস্টেটের সামনে হাজির না করায় তার শাররিক অবস্থা ও রিমান্ডে তার সাথে কী আচরণ করা হয়েছে জানা সম্ভব হয়নি।
এর আগে প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ডের সময় এক পর্যায়ে মাহমুদুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডাক্তার দেখানো হয়। পরে হাসপাতালে পাঠিয়ে ইসিজি করা হয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বিস্কুট আর পানি খেয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। গভীর রাতে তাকে সবসময়ই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতো বলে প্রথম দফা রিমান্ড শেষে তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন।আদালতে ম্যাজিস্টেটের সামনে তিনি দাড়াতে পারছিলেন না। তার ওজন কারাগারে যাওয়ার পর ১০ কেজি কমেছিল আগেই। আইনজীবীরা দেখে বলেছেন এখন মাপলে দেখা যাবে তিনি ১৫/২০ কেজি ওয়েট লস করেছেন।
সোমবার পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে মাহমুদুর রহমানের জামিন না দিতে আদালতের কাছে আবেদন করে পুলিশ। ২৫ এপ্রিল প্রথম ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেয় আদালত। অসুস্থ থাকায় দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয়ার সময় তার আইনজীবীরা তীব্র আপত্তি জানালেও পুলিশ বা আদালত কেউই তা শুনেনি। এমনকি হাইকোর্টের নির্শনা অনুযায়ী ডাক্তার ও আইনজীবীর উপস্থিতি ও পরীক্ষার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও ডিবি পুলিশ তা মানেনি। দ্বিতীয় দফায় ৪ মে এ মামলায় মাহমুদুর রহমানকে পুনরায় পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত।
একই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান কারাগারে আছেন। অন্যদিকে মাহমুদুর রহমান প্রায় ৭৫টি মামলায় জড়িয়ে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে কারাগারে আছেন। মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানের পরিবার জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open