হামলা ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

Sagornal High School Picক্রাইম রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ৪মে বুধবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আটজন অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থীর মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচিত করেন।

নির্বাচিত চারজন অভিভাবক সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে আম মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হোসাইন আহমদ আজাদ।
২য় হয়েছেন দোয়াতকলম প্রতীকে সামছুল আলম, ৩য় অবস্থানে মই মার্কা নিয়ে মানিক ক্ষেত্রী ও ছাতা প্রতীক নিয়ে ময়না মিয়া ৪র্থ হয়ে জয়লাভ করেন।
পরাজিত প্রার্থীরা হলেন যথাক্রমে- ফরিদ আলী (বই), আব্দুল মতিন (চেয়ার), তৈমুছ আলী (টেবিল) ও ইসরাব আলী (চশমা মার্কা)। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু, নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- বিকাল ৫টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই ভোট গণনায় ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরাজিত প্রার্থীরা। তখন পরাজিত প্রার্থীরা উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরী করলে বিদ্যালয়ের আশপাশে ওৎ পেতে থাকা তাদের কিছু সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোটা নিয়ে বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ও বিভিন্ন আসবাবপত্রে হামলা ও ভাংচুর চালায় এবং প্রিজাইডিং অফিসার সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

বিদ্যালয়ে হামলা হচ্ছে জেনে স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা হামলাকারীদেরকে প্রতিহত করার জন্য বিদ্যালয় মাঠে এসে জড়ো হন। তখন মাঠে হাজারো ছাত্র-জনতাকে দেখে পরাজিত প্রার্থীরা পুলিশ প্রশাসন, প্রিজাইডিং অফিসার ও চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করার জন্য জনসাধারণকে আহবান করেন। কিন্তু সচেতন ছাত্র-জনতা তাদের সেই আহবানে সাড়া না দিয়ে স্লোগান তোলে- ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই।’

এসময় ফলাফল কক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই সাংবাদিককে লাঞ্চিত করেন পরাজিত প্রার্থীরা।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তারা সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

জুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অসি) হামিদুর রহমান ও সাগরনাল ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী লিয়াকত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অতি দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের তদন্তপূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয় হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open